সদর সাব রেজিষ্ট্রিতে দুর্নীতি, অনেকে ভাবেন এটাও আইন !

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৯৩ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৯ আগষ্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।

সদরের ধর্মপুরের কতেক ডিসিমেল জমির জনৈক দলিল গ্রহিতা বলেন, সদর সাব রেজিষ্ট্রি দপ্তরে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। তিনি বলেন, প্রতিটি দলিলে সরকারী রাজস্ব যথাযথভাবে পরিশোধ করার পরেও এখানে পদে-পদে বাড়তি টাকা দিতে হয়। তিনি আরো বলেন, সরকার যা পায়, তার চেয়েও বাড়তি দিতে হয় ঘুষ। এটি একটি প্রকাশ্য রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নোয়াখালী সদর সাব রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ে সংঘটিত ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম ও বিভিন্ন আর্থিক অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সচেতন নাগরিকেরা।

তারা জানান, নোয়াখালী সদর সাব রেজিষ্ট্রি দপ্তরটি বর্তমানে একটি অলিখিত ঘুষ, দুর্নীতির আখড়াখানায় পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ ওঠেছে, সাব রেজিষ্ট্রারের নামে কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিটি দলিল হতে ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন এ দপ্তরের কর্মরতরা। আদায় করা সমুদয় টাকার পুরোটাই চলে যাচ্ছে তার পকেটে। এভাবে গড়ে প্রতিটি দিনই তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকা। অথচ, ভাবটা এমন যেন তিনি কিছুই জানেননা। ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এছাড়া তার সেরেস্তায় প্রতিটি দলিলের সর্বমোট মূল্য ধরে প্রতি এক লাখ টাকার বদলে ৩ শত টাকা হারে আদায় করাও যেন একটি বাধ্যকর আইনে পরিণত হয়েছে। অবশ্য এ টাকা থেকে এখানে মাষ্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ঘুষ, দুর্নীতির এসব কাজে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকরাও জড়িত রয়েছেন। জানা গেছে, দলিল লেখকরা নিজেদের সুবিধাভোগের লালসায় সাব রেজিষ্ট্রারের ঘুষ, দুর্নীতির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন। মূলত, তাদের হাত ধরেই এ দপ্তরে দিনের পর দিন সংঘটিত হয়ে চলছে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এ বিষয়ে ভক্তভোগীরা ভয়ে কোন ধরনের বাদ প্রতিবাদ করছেননা। এক ভুক্তভোগী জানান, এসবের প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয়না। তাছাড়া সাব রেজিষ্ট্রারের দুর্নীতি, অনিয়ম সংঘটনে এখানকার সমিতির কতেক লোকও জড়িত রয়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন কতেক দলিল লেখক।

তারা বলেন, সমিতির লোকজন সৎ থাকলে কোন সাব রেজিষ্ট্রার কোন ধরনের অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে পারেনা। কিছু লেখক নিজেদের অন্যায়, জাল-জালিয়াতি কর্ম জায়েজ করতে সাব রেজিষ্টারদের হাতে রাখতে হয়। যে কারণে তাদের সংঘটিত অপকর্ম, অন্যায় ও দুর্নীতির সাথে সাব রেজিষ্ট্রারদেরও জড়িয়ে রাখেন তারা।

এদিকে, সাব রেজিষ্ট্রারের নাম করে কতেক দলিল লেখক দলিল গ্রহিতাদের কাছ থেকে আরো বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, সাব রেজিষ্ট্রিতে ২ হাজার টাকা দিলেও তারা আদায় করছেন কমপক্ষে ৪/৬ হাজার টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে এ হার আরো অনেক বেশি। তবে এমনটা সব লেখক করেননা বলেও জানান কতেক দলিল লেখক।

——————————————————————————————————————

অবশ্য এ বিষয়ে সমিতির এক নেতা বলেন, তার জানামতে, দলিল সম্পাদনকালে প্রতিটি দলিলের বিপরীতে সরকারী মূল্যের বাইরে কোন বাড়তি টাকা নেয়ার বিধান নেই।  

——————————————————————————————————————

এ বিষয়ে সদর সাব রেজিষ্ট্রার বুলবুল আহমেদ বলেন, আমার এ দপ্তরে অতিরিক্ত বা বাড়তি কিছু আদায়ের সুযোগ নেই। এ দপ্তওে তো কর্মচারী, দলিল লেখক অনেকেই জড়িত রয়েছেন। তাছাড়া, আমার অফিসে যে পরিমাণ সরকারী ফি আদায় করা হয়, তার রসিদও দেয়া হয়। এরপরও যদি কেহ আদায় করে থাকে, আমাকে তার নামটা দিলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!