দিশারী ডেস্ক।। ২৫ অক্টোবর, ২০২৫।।
নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে বিএনপি। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে একসাথে উপজেলা, শহর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সব ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন জেলা বিএনপি। এরপর মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে হতাশা এবং স্থবিরতা।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই বিলুপ্ত কমিটির নেতারাই এখন দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের ভার টেনে চলছেন। তারা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সভা, সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উদ্যোগটি নিয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আবু নাছের, সদর উপজেলার সভাপতি সলিম উল্যাহ বাহার হিরন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম উদ্দিন ও জেলার সাবেক দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুক টপিসহ রাজপথের সাবেক সংগ্রামী ও সাহসী নেতারা।
নেতৃত্বহীন পরিস্থিতিতে এই নেতারা নিজেদের সাংগঠনিক দায়িত্ববোধ থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দাবি করছেন। বলছেন, দীর্ঘদিন ত্যাগ, তিতিক্ষায় তাঁরা দলকে একটি সাংগঠনিক কাঠামোয় গুছিয়েছেন। সুতরাং, কোন অবস্থায় তারা সে কাঠামোর বিপন্নতা দেখতে চাননা।
——————————————————————————————————————–
তবে জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, নোয়াখালীর সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, কবিরহাট ও বেগমগঞ্জে তারা আংশিক কমিটি দিয়েছেন। অন্যান্য উপেজলা ও শহরগুলোতে কমিটির দায়িত্বে নতুন নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই চলছে। খুব শিগগিরই কমিটি ঘোষণা দেয়া হবে।
——————————————————————————————————————–
তবে অনেকে মনে করছেন, জেলা পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও পছন্দ-অপছন্দের রাজনীতির কারণেই নতুন কমিটি ঘোষণা বিলম্বিত হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা, শহর ও ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিএনপির আগামী কমিটির দলীয় কর্মসূচি ও নির্বাচন প্রস্তুতিতে এর প্রভাব পড়বে। তৃণমূলের নেতৃত্বহীনতার কারণে রাজনৈতিক মাঠে বিভ্রান্তি, ভাঙন এবং কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নোয়াখালী বিএনপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। সেই দূর্গের জনশক্তিকে নেতৃত্বহীন রাখা হচ্ছে। ফলে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে, কর্মীরাও হতাশ হচ্ছেন। জেলার নেতারা পছন্দ-অপছন্দের তদবিরে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ।
২০২৪ সালের আগে পরে বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সভাপতি গোলাম হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এরপর ২০২৪ সালের শেষের দিকে কেন্দ্রে হতে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু একটা পর্যায়ে , জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি এক নোটিশে দলের উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের পুরো কমিটিই বাতিল করে দেয়। সে সময় জেলা থেকে জানানো হয়েছিল, দ্রুত আহব্বায়ক কমিটি গঠন করে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে সদর, সুবর্ণচর, নোয়াখালী পৌরসভাসহ প্রায়স্থানে এক বছরের কাছাকাছি সময়েও সে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
—————————————————————————————————————-
বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান বলেন, আমরা দল করি, দলের জন্যই কাজ করছি। কমিটি থাকলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়। তবে দায়িত্ব না থাকলেও কর্মীদের সঙ্গে আছি। দলের প্রতিটি কর্মসূচি আমরা সফলতার সাথে পালন করেছি। সামনেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিলুপ্ত কমিটির জেলার কোষাধ্যক্ষ আবু নাছের বলেন, কমিটি গঠনের দায়িত্ব জেলার, মাঠের কাজ করার দায়িত্ব আমাদের। আমরা মাঠের কাজে সক্রিয় আছি। আমরা মাঠে রয়েছি, দলকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছি।
——————————————————————————————————————-
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নোয়াখালীর রাজনীতিতে বিএনপি সবসময়ই একটি প্রভাবশালী শক্তি। সামনে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বহীন এই সংগঠন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
Leave a Reply