শিরোনাম:
কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবেন যে ব্যক্তি নোয়াখালীতে কে, কত ভোটে বিজয়ী ? হাতিয়ায় এনসিপিকে সমর্থন করে জামানত হারিয়েছেন দুই প্রার্থী ভাটিরটেকে ধানের শীষের প্রধান এজেণ্টের ওপর সন্ত্রাসী হামলা কুমিল্লায় দুই লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ জামাতের আমির আটক জামায়াত কৌশলে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে ? সদর ও সুবর্ণচরের উন্নয়নের অবিচ্ছদ্য নাম : গাঁও গেরামের শাহজাহান, দু’মুখো চরিত্র কিয়ামতের দিনে লাঞ্ছনার কারণ হবে দলীয় পরিচয় গোপন রেখে প্রিসাইডিং ও সহকারী পদে ৬ শিক্ষক নোয়াখালীর উন্নয়নে আসছে ২৫০০ কোটি টাকার বন্ড

কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবেন যে ব্যক্তি

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৪ পাঠক

মাইমুনা আক্তার।। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

ইসলাম যে জিনিসগুলোকে খুব অপছন্দ করে তার মধ্যে একটি হলো ঝগড়া-ফ্যাসাদ। কারণ এটি ঈমানের মাধুর্য নষ্ট করে। সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। মানুষের ঈমান ও চরিত্রকে কলুষিত করে দেয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের ঝগড়াটেদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘ আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যার কথা দুনিয়ার জীবনে তোমাকে অবাক করে এবং সে তার অন্তরে যা রয়েছে তার ওপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখে। আর সে কঠিন ঝগড়াকারী। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৪)

এই আয়াতে মূলত মোনাফিক ঝগড়াটেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তা ছাড়া এই স্বভাব মোনাফিকদের মধ্যেই বেশি পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি (দোষ) যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে খাঁটি মোনাফিক ; আর যার মধ্যে এ দোষগুলোর একটি বর্তমান রয়েছে তার ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মোনাফিকির একটি স্বভাব থেকে যায়। (১) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, (২) সে সন্ধি চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে, (৩) সে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৪) সে ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৩)

হাদিসে বর্ণিত সব কটি স্বভাবই জগড়াটে মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়।

এ জন্যই হয়তো মহানবী (সা.) ঝগড়াটে মানুষদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে। (বুখারি, হাদিস : ২৪৫৭)

অনেকে তার সমাজে, এলাকায়, বন্ধুমহলে প্রভাব বিস্তার করতে ঝগড়া-বিবাদের পথ বেছে নেয়। এ নিয়ে তাদের অহংকার করতেও দেখা যায়। কেননা তারা মানুষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়, চাপে রাখে।

অন্যরাও তার ঝগড়াটে স্বভাবের কারণে তাকে তোয়াজ করে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে সম্মানও দেখায়। কিন্তু মূলত মানুষ তার অনিষ্ট থেকে বাঁচতে তাকে ত্যাগ করেছে।

এ ধরনের লোকের ব্যাপারে মহানবী (সা.)-এর সুন্দর একটি হাদিস আছে।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি লোকটিকে দেখে বলেন, সে সমাজের নিকৃষ্ট লোক এবং সমাজের দুষ্ট সন্তান। এরপর সে যখন এসে বসল, তখন মহানবী (সা.) তার সামনে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং উদারতার সঙ্গে মেলামেশা করেন। লোকটি চলে গেলে আয়েশা (রা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন, তখন তার সম্পর্কে এরূপ বললেন, পরে তার সঙ্গে আপনি সহাস্যে ও উদারপ্রাণে সাক্ষাৎ করলেন ! তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা। তুমি কখনো আমাকে অশালীন রূপে পেয়েছ ? কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে সেই ব্যক্তি, যার বদ স্বভাবের কারণে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে। (বুখারি, হাদিস : ৬০৩২)

তাই আমাদের উচিত ঝগড়া থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা। এমনকি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত বিষয়ে ঝগড়া করার ব্যাপারেও ইসলামে অনুৎসাহী করা হয়েছে। মহানবী (সা.) ঝগড়া এড়িয়ে চলা মানুষদের জন্য জান্নাতের বিশেষ উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

——————————————————————————————————–

আবু উমামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ যে ব্যক্তি ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার ; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮০০)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে চারিত্রিক উৎকর্ষ দান করুন। আমিন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!