আকাশ মো. জসিম। সম্পাদক ও প্রকাশক।
রাজনীতির পিচ্ছিল পথে বহু ঘাত-প্রতিঘাতের কমতি ছিলনা। সবই সয়ে গেছেন নিরবে, নিবৃতে ; নিঃশব্দে। বরণ করেছেন অসংখ্য হামলা-মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রোষানলে ক্লান্ত হয়েছেন একাধিকবার। করেছেন কারাবরণ। শিকার হয়েছেন ষড়যন্ত্রমূলক মামলার গ্লানির আস্ফালন।
————————————————————————————————————–
কথা আর কাজে এক। গাঁও-গেরামের সবার নেতা। এককথায় খেতাব তিনি গণমানুষের প্রিয় নেতা। মো. শাহজাহান। আপাদমস্তক রাজনীতিক। সভ্য, ভদ্র, শান্ত, অহিংস ও শিষ্টাচারে পরিপূর্ণ এক মানুষ। চলনে-বলনে পুরোদস্তোরই সাংগঠনিক কর্মকান্ডের আঁধার। বচনে, রচনে বাক-স্বাধীনতায় চিন্তাশীল।
————————————————————————————————————–
জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির নিরিখে কথার চলে অনবরত, সত্য ও স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য তাঁর। গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জীবন নিবিষ্ট প্রেরণাদায়ক রাজনীতিক মো. শাহজাহান। নোয়াখালীর বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অভিব্যক্তি তিনিই।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমানের ভাষায়, নোয়াখালীর রাজনীতির অঙ্গনের অবিসংবাদিত রাজনীতিক মো. শাহজাহান । কর্মীদের চোখে সাংগঠনিক দক্ষতা, বিচক্ষণতা, প্রাজ্ঞতা, মেধা আর কর্মময় অবয়বের একনিষ্ঠ অধ্যায়ে পরিস্ফূটিত তাদের নেতা।
জেলার রাজনৈতিকবোদ্ধাদের ভাষায়, মো. শাহজাহান সততায় নিষ্ঠাবান। চরিত্রে পরিচ্ছন্ন। সাধারণ মানুষের জীবন পরিক্রমায় এক মিশুক প্রকৃতির শান্ত স্বভাব তাঁর। সদর বিএনপির সাংগঠনিক রাজনৈতিক ত্যাগ, তিতিক্ষা, সংগ্রাম ও বিচক্ষণতায় পথ ধরে এ মানুষটি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ও চট্রগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন শেষে জাতীয় পরিসরে যুগ্ম মহাসচিব পদেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন পদ যোগ্যতার খাতায়।
দলের নেতা, কর্মীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সাংগঠনিক, গণতান্ত্রিক, গঠনতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের প্রভাবে হয়তোবা বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও সহসাই নাম বসবে তাঁর।
————————————————————————————————————–
বিএনপির একজন দেলোয়ার হোসেন বলেন, মো. শাহজাহান এক সুদীর্ঘকাল নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে এ জনপদকে বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। বর্তমান নোয়াখালী জেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের প্রায়জনই তাঁর রাজনৈতিক সৃষ্ট নেতা, কর্মী বলা যায়।
————————————————————————————————————
২০০১ সালের নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদের একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি। ছিলেন জাতীয় সংসদের অন্যতম হুইপও। কিন্তু, ক্ষমতার দৌরাত্ম্য তাঁকে কোনকালেই অমানুষ করেনি। আচার-আচরণে শিষ্টাচারিতা হারাননি তিনি। মূলত, তাঁর চারিত্রিক অবয়বজুড়ে প্রতিটি মানুষই সমমর্যাদার।
নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচরে সংসদ সদস্য পদে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে কোন বিরোধী শক্তিও অহেতুক কোন মামলা, হামলা কিংবা প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এমন কথা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষতার দায়ে বলা গেলেও সত্যতার বিচারে এ খতিয়ান অতিব সত্য নয়।
মো. শাহজাহানের ব্যক্তিগত জীবনী বলতে গিয়ে বিএনপির এককর্মী আবেগঘন হৃদয়ে বলেন, একনাগাড়ে মানুষের সাথে আপাদমস্তক ভালবাসায় সিক্ত মো. শাহজাহানের পুরোটা জীবন। রাজনীতির চিরাচরিত ধরণ পাল্টে এ সমাজে অনেকেই জনপ্রতিনিধির খাতায় নাম ওঠিয়েছেন। কিন্তু, ক’জনাই-বা সাধারণ মানুষ দুরে থাক, কর্মীর সাথেও ভাল আচরণ করেছেন !

সর্বসাধারণের জন্যে ক’জনারই-বা বাসগৃহের সদর দরজা থাকে সার্বক্ষণিক খোলা। এমন উদাহরণ মো. শাহজাহান বিনে কমই মেলে ইতিহাসের পাতায় আর সত্যিকার জনপ্রতিনিধির নান্দনিক জীবনের সাধারণ খাতায়। রাজনীতির সমৃদ্ধময় জীবনে কোন নেতা, কর্মী কিংবা সমর্থক তাঁর হৃদয় মন্দিরের ভালবাসা বঞ্চিত হয়েছেন এমনটা ঠিক খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। যে কারণে কোন কর্মী, সমর্থকের রাজনৈতিক জীবনের নগদ কোন প্রাপ্তির হিসেব না মিললেও মো. শাহজাহানের ওপর বিরুপ হয়েছেন এমন কর্মীও সচরাচর নেই।
বিএনপির আরেক কর্মী বলেন, মো. শাহজাহান সংসদ সদস্য পদে দায়িত্বকালীন সময়ে সদর ও সুবর্ণচরের অনেকেরই সরকারী চাকুরি হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসনের কর্মরত এমন কোন ব্যক্তির স্বাক্ষ্য পাওয়া যাবেনা ; যে বিনিময়ে তিনি কারো কাছ থেকে কোন ধরনের অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন।
ওই কর্মী শতভাগ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, শুধু তাই নয়, তাঁর সময়ে দলীয় কোন আচার-অনুষ্ঠান আয়োজনের নামেও কোন সরকারী দপ্তর থেকে নুন্যতম কোন সুবিধা লুটেছেন এমন কথারও অস্তিত্ব আজো খুঁজে পাওয়া যাবেনা তাঁর জীবনে।
জীবন সংগ্রামে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছেন মো. শাহজাহান। জীবনে অনেক ঝড়, ঝঞ্চার গ্লানি, হাসির বদনে ভুলে গেছেন। রাজনৈতিক জীবনে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাছে টেনে নিয়েছেন যেখানে-সেখানে। তাঁর সেই প্রেরণায় অনেক কর্মীই বিএনপির রাজনীতিতে আপ্লুত।
————————————————————————————————————
মো. শাহজাহান ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর সদর ও সুবর্ণচরের গণমানুষের সুখ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সহযাত্রায় নিজেকে অংশীদারিত্ব করেন। এক সময়ের ভাঙ্গাচুরা সেই মেঠোপথ সোনাপুর হতে হাতিয়া ঘাট, সোনাপুর হতে আক্তার মিয়ার হাট, মাইজদী হতে নোয়া হাট, দত্তবাড়ির মোড় হতে ওদার হাট,মাইজদীর ইসলামিয়া হয়ে নোয়াহাট, পাকাকরণে নিজের অবদান অবিস্মরনীয় করে রেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শী আর ভুক্তভোগীদের কাছে। রয়েছে অসংখ্য পোল, কালভার্ট। খাল-বিল ও হাট-বাজারের উন্নয়ন।
————————————————————————————————————
২০০১ সালে বিএনপি সরকারকালে সেসব সড়কে বিদ্যুতায়নের কথা রাজনৈতিক কিংবা স্বভাবসুলভ প্রতিহিংসার প্রতিধ্বনিতে সমাজ বিচ্যুত কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষ ভুললেও, সচেতন সমাজের অনেকের মুখে আজো উচ্চারিত হয় তাঁর অবদান। নোয়াখালীর দস্যুকবলিত জনপদের দস্যুদের শৃঙ্খলিত করে অশান্তির জনপদকে একটি শান্তি, শৃঙ্খলা ও বসবাসের পূণ্যভূমিতে রুপান্তর করেন তিনি।
———————————————————————————————————
জেলা শহরের নাগরিকদের জন্যে পৌরব্যবস্থাপনায় বিশুদ্ধ পানির জলাধার স্থাপন, শিল্পকলা একাডেমি ভবন, জেলা জজকোর্ট ভবনের উন্নয়ন, মা ও শিশু হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সুবর্ণচর উপজেলা কমপ্লেক্স, চরজব্বর থানা ভবন, শত-শত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রেজিষ্ট্রার্ডসহ গাঁও-গেরামে কমিউনিটি ক্লিনিক, সবই তো তাঁর সময়ের উন্নয়ন।
——————————————————————————————————
শিক্ষানুরাগী মো. শাহজাহানের সময়ে সদর ও সুবর্ণচরে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, চরমটুয়া ও চরজব্বর কলেজসহ অনেকগুলো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় নোয়াখালী সরকারী কলেজ পুরানো ক্যাম্পাস ছেড়ে স্মাতক ( সম্মান ) স্মাতকোত্তর নিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে প্রাণ পেয়েছে। এককথায় নাগরিক জীবনের সাথে মিশে আছেন মো. শাহজাহান। সদর ও সুবর্ণচরবাসীর প্রাণের যেন মহাপ্রাণ।
——————————————————————————————————
যে কারণে সচেতন নাগরিকেরা বলেন, একটু পেছনে তাকান। নতুবা সত্যতা আপনার বাবাকে বলতে দিন। তিনি পক্ষদুষ্ট হলে আপনার মাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনিও কোন বকধার্মিকের অসত্যের পূজোয় জর্জরিত হয়ে মিথ্যের বেসাতিতে যদি তাল মেলায়, তবে আপনার চলার পথের একজন নিরীহ খাঁটি ঈমান আর সত্যিকারের আমলদারকে জিজ্ঞেস করুন। নিশ্চিত তিনিই বলবেন, আপনি যে রাস্তা দিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন, তা জননেতা মো.শাহজাহান এ-র অবদান।
কেরোসিনের প্রদীপের শিখার স্থলে বৈদ্যুতিক জ্বলজ্বলানীকে জিজ্ঞেস করুন, সেও বলবে আপনার হাতের সুইচের টিপটায় লেগে আছে বিএনপির রাজনীতির অনুদান। আপনি যে বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী পরিচয়ে বিচরণ করছেন, সে প্রতিষ্ঠানের শুভানুধ্যায়ীদের জিজ্ঞেস করুন, তারাই আওয়াজ দেবেন এর উন্নয়নের সর্বোত একজন শ্রদ্ধাভাজন জননেতা মো. শাহজাহান এ-র কর্মগুণ।
সঙ্গতকারণে , সচেতন নাগরিকেরা বলেন, নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের উন্নয়নের প্রতিভূ এবং এ এলাকারই সুসন্তান মো. শাহজাহানকে আরেকটি সুন্দর আগামী বির্নিমানের দায়িত্ব দিন। আহবান সবার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় ধানের শীষে ভোট দিন।

Leave a Reply