নোয়াখালীতে বেসরকারি হাসপাতালে মানতে হয়না কোন নিয়ম

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালীর প্রতিটি উপজেলা, পৌরএলাকা, এমন কি হাট-বাজারগুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠছে বেসরকারি হাসপাতাল ও প্যাথলজি। দিনের পর দিন স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রে কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে প্রায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

খোদ চিকিৎসা ব্যবস্থায় অবহেলা ও অপচিকিৎসাসহ নানা অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিকবার জনরোষের শিকার হয়েছে প্রাইম হসপিটাল নামের একটি বেসরকারী হাসপাতালও। জানা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই। অনেকের লাইসেন্স থাকলেও নেই নবায়ন।

————————————————————————————————————————————

বিভিন্ন হাসপাতালের মালিকদের সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্থের বিনিময়ে বেসরকারী হাসপাতালগুলোর নামে সরকারি পরিদর্শনের প্রতিবেদন জায়েজ করে দিচ্ছেন। যাতে কোন ধরনের অনিয়ম থাকলেও অর্থের জোরে সবই সঠিক ও প্রচলিত নিয়মে পরিণত হয়ে যায়। 

————————————————————————————————————————————

এছাড়া , এসব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নিয়ে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নবায়নের নামেও হাজার-হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। একটি বেসরকারী হাসপাতালের মালিক জানান, তিনি মুস্তাফিজকে মোটা অংকের অর্থ দিয়েছেন। তবে এটা জানাজানি হলেও তো দু’পক্ষেরই ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই তিনি নাম প্রকাশ করতে নারাজ।

অবশ্য মোস্তাফিজ তার বিরুদ্ধে আনিত সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে বা যারাই এসব অভিযোগ করছেন, তাদের বলেন আমার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবরে দরখাস্ত করতে। অধিকিন্ত জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে জনৈক ব্যক্তি সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে মোস্তাফিজুর রহমানের সংঘটিত অন্যায় ও অব্যবস্থাপনার প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। যার একটি অনুলিপি দৈনিক দিশারীর হাতে এসেছে।

ভিন্ন সূত্র দাবি করছে, মোস্তাফিজ রহমান জেলার একজন সার্জারী ডাক্তার (চিকিৎসক) মাহবুবুর রহমানের সহোদয়। সে সুবাদে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে রয়েছে তার প্রচন্ড দাপট। যে কারণে জেলায় স্বাস্থ্যবিভাগে তার সংঘটিত যে কোন ধরনের প্রভাব, প্রতাপও স্বাস্থ্য বিভাগের কেহ সহজে আমলে নেননা বলে অভিযোগ করছেন জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ।

————————————————————————————————————————————

অভিযোগে বলা রয়েছে, ১০ শয্যার একটা হাসপাতালে ৩ জন ডাক্তার, ৬ জন ডিপ্লোমা নাসর্, প্যাথলজিতে একজন ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান থাকার কথা। কিন্তু ১০ শয্যার স্থলে শতশত শয্যা নিয়ে এসব হাসপাতাল বেড়ে ওঠলেও বাস্তবে কোথাও পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে মানুষের মৌলিক অধিকারের স্বাস্থ্য সেবা খাত কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি।

————————————————————————————————————————————

জানা যায়, অনেকের পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। এ বিষয়ে জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, এত অনিয়ম নিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো চলতে পারে না। নানা অনিয়মের কারণে অনেকেই ছাড়পত্র পাননা বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ারা হোসেন বলেন, তিনি জেলার প্রায়ই সরকারী, বেসরকারী হাপাতাল ও প্যাথলজির খোঁজ-খবর নেন। তিনি ইতোমধ্যে, বেসরকারী হাসপাতাল ও প্যাথলজি পরিদর্শনকালে সকল হাসপাতালের মালিকদের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে হাসপাতাল পরিচালনা করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসঙ্গে, নিজ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেহনা। সবাইকে সরকারি নীতিমালার ভেতর এসে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে হবে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দেন সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!