যে কারণে তাঁকে স্মৃতি স্মরি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা মো. শাহজাহান

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ পাঠক

আকাশ মো.জসিম, সম্পাদক ও প্রকাশক

।। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
———————————————-
নিজের বয়সের ছাপ পড়ে গেছে। পঞ্চাশের খুব পাশে। জীবনের শুরু থেকেই রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি না হলেও, একটি নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের প্রশ্নে রাজনৈতিক সচেতনতায় সম্পৃক্ত রয়েছি।‌ যে অধিকার সংরক্ষণের প্রশ্নে অতি যত্ন করি নিজের ভোটাধিকারও।

১৯৯১ সাল থেকে ভোট দেয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। জীবনের প্রথম ভোট বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহানকেই দিয়েছি।

তখন হরিনারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি একটু, আধটু চিনতেন। এরপর সম্পর্কটা সুন্দর, সুদৃঢ়, প্রাণান্ত ও বিশ্বস্ত এবং পারস্পরিক টেকসই হওয়ার পর, তাঁকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, একটা পর্যায়ে পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি, তিনি কথা আর কাজে বরাবরই এক ও অভিন্ন। কোথাও একটুও হেরফের হয়না তাঁর। দৃশ্যত মনে হয়েছে, প্রতিভায় আচ্ছন্ন এমন স্বভাবের প্রভাব বজায় রয়েছে , তাঁর ব্যক্তি জীবন থেকে রাজনৈতিক জীবনেও।

তিনি শিক্ষা-দীক্ষায় দীক্ষিত, দারুন পারঙ্গম। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এবং সমৃদ্ধির পূজোরী। সব বিষয়ে রয়েছে নিজের প্যান্ডেলের গণ্ডিতে সমাজের উন্নয়নের চমৎকার পারঙ্গমতা। তিনি ভুল করেও কোন অযোগ্যধারীকে যোগ্যতার মন্দিরে বসান না।

নোয়াখালীর অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির মানোন্নয়নে রয়েছে তাঁর কৃতিত্ব ও কতৃত্ব এবং অনন্য উচ্চতার অবদান। এক সময় সোনাপুর থেকে চরবাটা ও আক্তার মিয়ার হাটের রাস্তা-ঘাটের অবস্থা ছিল ধান ক্ষেতের আইলের ন্যায় জরাজীর্ণ ও কাঁচা। কোথাও কোন পাকা সড়ক ছিল না।

পৌর এলাকার ইট বিছানো রাস্তাকেই আমরা পাকা সড়কের উদাহরণ হিসেবে নিতাম। এছাড়া মাইজদী হতে নোয়া হাট, করমুল্যা, ছেউয়াখালি, ওদার হাটের রাস্তাঘাট চেনানোর কোন উপায় ছিল না।

ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত ছিল নোয়াখালী পৌরসভার সার্বিক পরিস্থিতি। শহরে, গ্রামে কোথাও বিদ্যুৎ,পানি ছিল না। একমাত্র মো. শাহজাহান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর বদলে যায় এ জনপদের চেহারা। সার্বিক নির্মাণশৈলী ও দৃশ্যপট।

অনেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খবরই জানেন না। হাতেগোনা কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাত্র কয়েকটা মাদ্রাসা ছাড়া ধারেকাছে ছিল না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মো. শাহজাহান মাননীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেকে অংশীদারিত্ব করেছেন বলে আজ তাঁর বিরোধীরাও সেসব মঞ্চ থেকে মানুষ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন।

রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোঁয়া। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজও আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মর্যাদা ও পরিবেশ নিয়ে গর্বিত ও সমৃদ্ধির পথে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ছিল মাত্র ১০০ শয্যায়। ২৫০ তে উন্নীত হয়েছিল তাঁর বদান্যতায়। সুবর্ণচরে উপজেলা, থানা ও এতোগুলো ইউনিয়ন পরিষদ ছিল না। যেমন সদরের ধর্মপুর, আন্ডার চর, পূর্ব চরমটুয়াও ছিল না। ইউনিয়নগুলোর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ছিল কল্পনাতীত। আজ বিএনপির রাজনীতির বিরোধীদের বাড়ির দরজায়ও রয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপিত। তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের কারিগরিতে ছিলেন পারদর্শী। কিন্তু কোথাও কোনটিতেই নিজের বা পরিবারের কোন সদস্যের নাম অঙ্কিত করে নিজেকে বিকশিত করছেন ?

গতকাল, ২৭ সেপ্টেম্বর,‌ সুবর্ণচরের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি আঠারো কিলোমিটার নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিকল্পিতভাবে মেঘনার কবল হতে রক্ষায় ভূমিকা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এতোদসত্বেও সুবর্ণচরের সুবিধাভোগী মানুষ তাঁকে ভুলে যাবেন হরহামেশাই !?

সুবর্ণচরের বনদস্যুদের কবল থেকে নিরীহ ও ভূমিহীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটা সময় নিজের জীবনের নিরাপত্তাও ভুলে অজস্র রাত জেগেছিলেন এমন দস্যু কবলিত চর এলাকায়। বয়সের এ প্রান্তে আর কি কি করলে নিবারিত হবে মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে গীবত, গুজব ও মিথ্যেচার ? হিংসা, প্রতিহিংসা ?

তবে আমরা বিশ্বাস করি, একজনমে মো. শাহজাহানের ন্যায় একজন গণতান্ত্রিক চিন্তা ও চেতনার নেতা কোন রাজনৈতিক দলের জীবনে বারবার ফিরে আসে না।

সুস্বাস্থ্য আর সুস্থ্যতায় দীর্ঘায়িত হোক আগামীর প্রতিটি সময়।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!