বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমিই সবচেয়ে বেশি

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৪তম। তবে আয়তনে ছোট হলেও মোট ভূমির অনুপাতে চাষযোগ্য জমির হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। দেশের মোট ভূমির ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ আবাদযোগ্য। বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের করা এক তালিকায় ওঠে এসেছে এসব তথ্য।

——————————————————

ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট

——————————————————

এতে বলা হয়েছে, ভৌগোলিক আয়তনের বিশালত্ব কোনো দেশের কৃষি-উর্বরতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। বিশ্বে চাষযোগ্য জমির অনুপাতে বাংলাদেশের পরের স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির ভূমির ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ চাষযোগ্য। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মলদোভার চাষযোগ্য জমি ৫৬ দশমিক ৮, চতুর্থ অবস্থান ইউক্রেনের ৫৬ দশমিক ৮ এবং পঞ্চম ভারতের মোট ভূমির ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ আবাদযোগ্য।

———————————————————————————————————————————

সমীক্ষা বলছে, সাধারণভাবে বড় রাষ্ট্রগুলোর আবাদি জমির পরিমাণ বেশি মনে হয়। কিন্তু দেশের মোট আয়তনের অনুপাতে হিসাব করলে বিশ্বের সব বড় দেশকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সিংহভাগ মরুভূমি, পাহাড় কিংবা বরফে ঢাকা থাকে, সেখানে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ জমিই সরাসরি চাষের উপযোগী।

———————————————————————————————————————————

শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বেশি। ভারত ছাড়াও পাকিস্তানের ভূমির ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ চাষযোগ্য ; দেশটির অবস্থার বিশ্বে ১৩তম। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ২২ দশমিক ২ (৪৭তম), নেপাল ১২ দশমিক ৬ (৮০তম) এবং আফগানিস্তান ১২ শতাংশ (৮৫তম)। তালিকায় বিশ্বে চাষযোগ্য জমির হিস্যায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আরও রয়েছে বুরুন্ডি ৫১ দশমিক ৪ (৬ষ্ঠ), টোগো ৪৮ দশমিক ৭ (৭ম), রুয়ান্ডা ৪৭ (৮ম), হাঙ্গেরি ৪৫ দশমিক ৪ (৯ম) ও গাম্বিয়া ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ (১০ম)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মূলত গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় বদ্বীপ। হাজার বছর ধরে হিমালয় থেকে নেমে আসা নদ-নদীগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি টন খনিজসমৃদ্ধ পলিমাটি বহন করে নিয়ে আসে, যা দেশটির মাটিকে কৃত্রিম রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত উর্বর ও ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে তোলে।

চীন, রাশিয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো আয়তনে বিশাল হলেও সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে পর্বতমালা, মালভূমি বা স্থায়ী বরফাচ্ছাদিত অঞ্চল। যে কারণে মোট ভূখণ্ডের বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্রাকৃতিকভাবে সমতল সমভূমি। ফলে দেশের সিংহভাগ অঞ্চলের মাটিই চাষাবাদের আওতাভুক্ত করা সম্ভব। ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশে তীব্র শীত বা দীর্ঘস্থায়ী বরফ পড়ার মতো কোনো জলবায়ুগত প্রতিবন্ধকতা নেই। পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং নিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে এখানকার কৃষিজমিগুলো সারা বছর সচল থাকে। ফলে একই জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল ফলানো বা ‘মাল্টি-ক্রপিং’ প্রাকৃতিকভাবেই সহজ হয়ে যায়। ভৌগোলিক আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হতে পারে; কিন্তু সম্পদের ঘনত্ব বা ‘রিসোর্স ডেনসিটি’র দিক থেকে এই মাটি পৃথিবীর অন্যতম এক অনন্য বিস্ময়।

তবে এই অর্জনের পাশাপাশি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জও— জনসংখ্যার চাপ, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষিজমি কমে যাওয়ার ঝুঁকি। তাই চাষযোগ্য জমি রক্ষা করা মানে শুধু কৃষি রক্ষা নয় ; ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা করা।

———————————————————————————————————————————

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আবাদি জমির উচ্চ শতাংশ থাকার অর্থ এই নয় যে, একটি দেশে বেশি কৃষিজমি আছে বা বেশি খাদ্য উৎপাদন হয়। যেহেতু এই র‍্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে আবাদি জমির পরিমাপ করা হয়েছে, তাই বড় দেশগুলো বিশাল এলাকা জুড়ে চাষাবাদ করার পরও তুলনামূলক হিসেবে পেছনে পড়ে গেছে। সে কারণে বিশ্বের শীর্ষ খাদ্য সরবরাহকারী দেশ আর সর্বোচ্চ আবাদি জমির অধিকারী দেশগুলো আলাদা।

———————————————————————————————————————————

দক্ষিণ এশিয়া বিস্তৃত নদীব্যবস্থা এবং উর্বর সমভূমির জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। বিশেষ করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র এবং সিন্ধু অববাহিকার আশপাশে। আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, এই আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাগুলো আঞ্চলিক কৃষি উৎপাদনশীলতার কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং জীবিকার সঙ্গেও কৃষি গভীরভাবে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে, ভারতে ছোট ছোট খামার ব্যাপকভাবে প্রচলিত, যেখানে সেচ এবং নিবিড় চাষাবাদ বিশাল এলাকা জুড়ে কৃষিকাজকে সহায়তা করে।

আবার মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ অংশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। আরব ল্যান্ড ইনিশিয়েটিভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব অঞ্চলের ৯২ শতাংশই অতি শুষ্ক, পানির অভাব ও ভূমিক্ষয় কৃষি এলাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সীমিত বৃষ্টিপাতের দেশগুলো অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে ব্যবধান পূরণের জন্য সেচ ও ভূগর্ভস্থ পানি, প্রযুক্তি এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভর করে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!