সাংবাদিকতার পরিচয়েও রয়েছে সরকার বিরোধী গুপ্তচরবৃত্তি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

দেশে বিভিন্ন পেশার আড়ালে সক্রিয় রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী ইনফরমার নেটওয়ার্ক। এরা গোপনে তথ্য পাচারসহ দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত। ছদ্মবেশে বিভিন্ন দল ও পেশায় মিশে থেকে এরা গোপনে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমানভাবে সুশীল কিংবা মাত্রাতিরিক্ত সরকার বন্দনায় লিপ্ত হওয়া এসব গুপ্তচরের অতীত রেকর্ড পর্যবেক্ষণ, ফেসবুক স্ট্যাটাস, অনলাইন অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

—————————————————————————————————————————————-

এই চক্রে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা, পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন রয়েছেন বলে একটি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। শুধু রাজধানী ঢাকা এবং ঢাকার উপকণ্ঠে দেড় শতাধিক লোককে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং তালিকা প্রণয়নের কাজও এগোচ্ছে।

—————————————————————————————————————————-

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ কয়েক মিনিটের মিছিল। মুহূর্তেই মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কোথা থেকে লোকজন এলো, কারা সমন্বয় করল, কর্মসূচির তথ্য আগে কারা জানত, মিছিল শেষে ভিডিও বা অন্যান্য তথ্য কোথায় গেল— এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা। খবর : অন্য দৈনিক

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঝটিকা মিছিল, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা, গোপন বৈঠকের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা কনটেন্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং অনলাইন তৎপরতার ধরন বিশ্লেষণ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানী ও এর উপকণ্ঠের দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে এরই মধ্যে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় শতাধিক ব্যক্তি এবং সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জে প্রায় ৪৫ জনের ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে অভিযোগের প্রমাণ, যোগাযোগের ধরন, অর্থ লেনদেন এবং নির্দিষ্ট অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই চলছে।

—————————————————————————————————————————————

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বিভিন্ন পেশায় থাকা কিছু ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করছেন। শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এমন ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং অনলাইন যোগাযোগের ধরন পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

—————————————————————————————————————————-

সূত্রের দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ প্রকাশ্যে বর্তমান সরকারের প্রশংসা করলেও অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়েছেন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তাদের কেউ কেউ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের অবস্থানও বদলেছেন। আগে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরকারের অতিবন্দনায় লিপ্ত হয়েছেন। তবে ভেতরে ভেতরে তারা আওয়ামী লীগের পলাতক বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ পলাতক নেতাদের আত্মীয়স্বজনকে শেল্টারও দিচ্ছেন। তাদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চলছে।

—————————————————————————————————————————————-

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কথিত এই নেটওয়ার্কের একটি অংশ অর্থের বিনিময়ে তথ্য আদান-প্রদান করছে। এদের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের কাছে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে এই চক্রের তৎপরতা বেশি। এদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থকড়ি আসছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

—————————————————————————————————————————-

সূত্রের দাবি, এসব যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরাসরি ফোনের পাশাপাশি মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যালসহ বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। কার সঙ্গে কার যোগাযোগ, যোগাযোগের সময়কাল, কী ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে এবং এর সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ বা পদায়ন পাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি অংশ এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত। তাদের কেউ কেউ সরকারি সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে পাচার করছেন। অবশ্য এমন তথ্য সামনে রেখে নজরদারি অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরেও সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি অব্যাহত আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ে আরেকটি চক্র গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে তথ্য সংগ্রহ করছে। ঝটিকা মিছিলের ভিডিও, কর্মসূচির ছবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থানসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ও তীক্ষèভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই রাজধানীতে একের পর এক ঝটিকা কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানের ৩ নম্বর সড়ক এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ককটেল বিস্ফোরণের কথা জানায়। পরে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৭৯-এ পৌঁছায়।

এ বিষয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ২৬ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় আবারও ঝটিকা মিছিল হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মোহাম্মদপুর থানা ইউনিটের ব্যানারে হয় এবং সেখানে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। চারজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ দুটি ঘটনাই একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে— রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে এমন কর্মসূচির আয়োজনের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কতটা আগে পৌঁছেছিল?

এদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের দাবি, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন জড়ো হয়ে বৈঠক করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৭৮ জনকে হেফাজতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২৭ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

————————————————————————————————————————————-

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাংগঠনিক যোগাযোগ শুধু সরাসরি বৈঠক বা ফোনকলে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত মেসেজ, বন্ধু গ্রুপ এবং বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মও যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ, কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা কর্মসূচির সমন্বয় কীভাবে হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তারা বলছেন, ডিসেম্বর সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছে আওয়ামী লীগের। তাদের কর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং আকস্মিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেয়ার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কী কর্মসূচি হবে, কোথায় হবে বা কারা এতে যুক্ত থাকবে, তার পূর্ণাঙ্গ ও প্রকাশ্য যাচাইযোগ্য তথ্য এখনো গোয়েন্দাদের সামনে আসেনি। ফলে তারা এসব বিষয় নিয়ে তীক্ষè নজরদারি করছেন।

—————————————————————————————————————————-

এদিকে একই সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনসের ভিত্তিতে দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা শাখা-২ থেকে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়। এ ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের নাশকতার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও নিয়েও তদন্ত হয়েছে। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং ডিএমপি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ডে রাকিবুলের কাছ থেকেও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পলাতক বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

————————————————————————————————————————————-

বিশ্লেষকদের মতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকের ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ এক বিষয় নয়। কোনটি সাংবাদিকতার স্বাভাবিক কাজ আর কোনটি বেআইনি তথ্য পাচার, তা নির্ধারণে প্রমাণ, উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

—————————————————————————————————————————-

অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, গোয়েন্দা নজরদারির উদ্দেশ্য শুধু কাউকে সন্দেহের তালিকায় রাখা নয়, সম্ভাব্য অপরাধের আগাম তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক পরিচয়, পেশা বা অনলাইন কার্যক্রমের কারণে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু পেশাগত পরিচয়, অতীত রাজনৈতিক যোগাযোগ কিংবা সরকারের প্রশংসা বা সমালোচনা একই অপরাধের প্রমাণ নয়। যারা প্রকৃতপক্ষে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করে, তাদের আইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই গোয়েন্দাব্যবস্থার সামনে একই সঙ্গে দুটি চ্যালেঞ্জ রেখেছে— একদিকে ঝটিকা কর্মসূচি ও সম্ভাব্য সংগঠিত তৎপরতার আগাম তথ্য পাওয়া, অন্যদিকে সেই তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আগাম তথ্য সংগ্রহ ও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছেন। রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা নস্যাতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!