ফেনীতে মানা হচ্ছে না অগ্নিনির্বাপন নীতিমালা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০২৪
  • 36 পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ১২ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।

ফেনী বড় বাজারের ভেতরে আগে একটি পুকুর ছিল। আশপাশে কোনো জলাধার না থাকায় ওই পুকুরটিই ছিল অগ্নিনির্বাপণে পানি সংগ্রহের একমাত্র ভরসা। পরে পুকুরটি ভরাট করে সেখানে নিউ মার্কেট বানানো হয়। এখন ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ড হলে সবাইকে ফায়ার সার্ভিসের পানির ওপরই নির্ভর করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপ্রশস্ত সড়কের বাধা!

পৌরসভার পক্ষ থেকে দুটি ওয়াটার রিজার্ভার (পানি সংগ্রাহাগার) দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা রয়েছে ‘প্রক্রিয়াধীন’ অবস্থায়। স্থানীয়রা বলছেন, ফেনী শহরে সুউচ্চ ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

কিন্তু এসব ভবন বানানোর সময় কোনো দপ্তরের নীতিমালা মানা হচ্ছে না। সবই হচ্ছে কর্তাব্যক্তিদের চোখের সামনে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংস্থা অর্থের বিনিময় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় বলেও রয়েছে অভিযোগ।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলাধার সংকট ও অপ্রশস্ত সড়কের কারণে তাদের অগ্নিনির্বাপণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। এ ছাড়া নীতিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের কারণে পুরো শহরই রয়েছে অগ্নিঝুঁকিতে। আর জলাধার কমে যাওয়ায় এ সংকট বেড়েছে আরও কয়েকগুণ।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, শহরে নিয়মিত বহুতল ভবন গড়ে ওঠলেও যথাযথ নীতিমালা মানা হচ্ছে না। ভবনগুলোতে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও নেই। এরই মধ্যে অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ২১টি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব ভবনের তালিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।

ফেনী বড় বাজারের ব্যবসায়ী নূর নবী বলেন, এই বাজারের ভেতরে নিউমার্কেটের জায়গায় আগে বড় একটি পুকুর ছিল। যেকোনো প্রয়োজনে ওই পুকুরের পানি ব্যবহার করা হতো। অগ্নিকাণ্ড ইস্যুতে পুকুরটি ছিল সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। কিন্তু এটি ভরাট করে মার্কেট বানানো হয়েছে। আমরা সব সময় সহায়-সম্বল হারানোর ভয়ে থাকি। একই কথা বলেন ওই বাজারের ব্যবসায়ী মানিক ও কাশেম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের পৌর হকার্স মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, আশপাশে কোথাও জলাধার নেই। আগুন লাগলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। আমরা সব সময় আগুন আতঙ্কে থাকি! পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংস্থা অর্থের বিনিময় বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। ঝুঁকির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, জেলার অধিকাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। প্রতিনিয়ত আমাদের কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়। শহরের বড় বাজারে গাড়ি নিয়ে ঢোকার কোনো ব্যবস্থা নেই। ওখানে যদি অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে অনেক বেশি। এ ছাড়া ওখানে কোনো জলাধার বা পানির উৎস নেই। এগুলো সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

শুধু বড় বাজার-ই নয়, শহরের বেশির ভাগ ওয়ার্ডের প্রবেশপথ অনেক ছোট। ওখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনা ঘটলে উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। তার পরও নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

‘ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘বড় বাজারে ছোটবড় মিলে সাত হাজার দোকান রয়েছে। এখানকার সবগুলো দোকানই অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে দুটি ওয়াটার রিজার্ভার বসানোর কথা ছিল। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের এ প্রকল্পটি এখনো নাকি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস থেকে চিঠি আসলে আমরা ব্যবসায়ীদের জানাই। তবে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস। বাজারে অনেক মার্কেট আছে, যেখানে পার্কিংয়ের জায়গাও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া গেলে ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকের টনক নড়বে। অন্যথায় একটি দুর্ঘটনা ঘটলে এ বাজার রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।’

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, পৌরসভার নকশা অনুসরণ না করে শহরে বেশ কিছু ভবন বানানো হয়েছে। আমরা কয়েকটি ভবন মালিককে নোটিশ পাঠিয়েছি। কয়েকটি ভবন ভেঙে রাস্তা বড় করেছি। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বাসাবাড়ির মালিকদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শহরের বেশ কিছু অপরিকল্পিত স্থাপনা রয়েছে সেগুলোতে পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হবে।’

মেয়র আরও বলেন, বড় বাজারে ওয়াটার রিজার্ভার বসানোর বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!