নিরপরাধ মানুষ হত্যার কঠিন শাস্তি

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ১০৩ পাঠক

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

যেসব অপরাধ আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে মানুষকে তার রবের কাছে অভিশপ্ত করে তোলে, তার মধ্যে একটি পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। কখনো কখনো ক্ষণিকের জন্য এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের সফল ও প্রভাবশালী মনে হলেও এর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কাজের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং আছে মন্দ আবাস। (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৫)

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কিছু নিকৃষ্ট কাজের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা। যেসব কাজকে মহান আল্লাহর অবাধ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তার মধ্যেও অন্যতম হলো পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করা।

সাধারণত পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ; ইসলামের দৃষ্টিতে যা জঘন্য অপরাধ। আর যদি তা মানুষ হত্যার পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে তো আরো ভয়ংকর বিষয়।

পবিত্র কোরআনে নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যা গোটা মানবতাকে হত্যার শামিল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, এ কারণেই আমি বনি ইসরাঈলের ওপর এই আদেশ দিলাম, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল। আর অবশ্যই তাদের নিকট আমার রাসুলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছে। তা সত্ত্বেও এরপর জমিনে তাদের অনেকে অবশ্যই সীমা লঙ্ঘনকারী। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩২)

হাদিসের ভাষায় কোনো নিরপরাধ মুসলিমকে হত্যা করাকে কুফরির পর্যায়ের পাপ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিমকে গাল দেয়া ফাসেকি কাজ (জঘন্য পাপ) আর কোনো মুসলিমকে হত্যা করা কুফরি। (বুখারি, হাদিস : ৭০৭৬)

এ জন্যই যারা ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও মানুষ হত্যার মতো জঘন্য কাজ করে পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, মহান আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আর জমিনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদের শাস্তি হলো এই যে তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে, অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এ হলো তাদের জন্য দুনিয়াতে লাঞ্ছনা, আর তাদের জন্য আখিরাতে রয়েছে মহাশাস্তি। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩৩)

এ জন্যই আমাদের নবীজি (সা.) মানুষের প্রতি দয়া ও রহমতের অনন্য উদাহরণ হওয়া সত্ত্বেও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কিছু খুনি-ডাকাতকে কঠিন শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির স্থাপন করেছেন।

আনাস (রা.) বলেন, একবার ‘উকল’ বা ‘উরাইনাহ’ গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে) মদিনায় এলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। বিশ্বনবী (সা.) তাদের (সদকার) উটের কাছে গিয়ে উটের পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল।

অতঃপর তারা সুস্থ হয়ে বিশ্বনবী (সা.)-এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলো তাড়িয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ দিনের প্রথম ভাগেই (তাঁর কাছে) এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বাড়লে তাদেরকে পাকড়াও করে আনা হলো। অতঃপর তাঁর আদেশে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হলো। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুটিয়ে দেয়া হলো এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হলো। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু তাদেরকে পানি দেয়া হয়নি।

আবু কিলাবাহ (রহ.) বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, ঈমান আনার পর কুফরি করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। (বুখারি, হাদিস : ২৩৩)

তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, এমন কাজ থেকে নিজেকে বহুদূরে রাখা। আর মুসলিম শাসকের দায়িত্ব কেউ যদি এ ধরনের জঘন্য নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর শাস্তি দিয়ে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করা।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!