জোবাইদা রহমান, এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম

  • আপডেট সময় রবিবার, ১১ মে, ২০২৫
  • ৭৭ পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ১১ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

জোবাইদা রহমান। যেন এক সৌম্য, নিরহংকার, শিক্ষিত, ভদ্র, এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারীর নাম। যাঁর জীবনটা শুধুই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের স্ত্রী হওয়ার পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তিনি নিজেই এক বিশাল পরিচয়ের অধিকারী।’

তিনি এমন একজন নারী, যিনি সর্বোচ্চ শিক্ষিত হয়েও নিজের কৃতিত্ব নিয়ে কখনও অহংকার করেননি। নিজেকে সবসময় রেখেছেন প্রচারের আড়ালে। ইতোমধ্যে বিএনপির অসংখ্য নেতা, কর্মীর সম্মান আর শ্রদ্ধায় ভরে গেছে তাঁর হৃদয়।

আজও তাঁর নামে নেই কোনো বিতর্ক, নেই কোনো কেলেঙ্কারি, নেই কোনো রাজনীতির রঙচঙের মোড়ক। তবুও তিনি হয়েছিলেন ফ্যাসিবাদের নোংরা রাজনীতির আক্রমণের শিকার।

এক যুগেরও বেশি সময় তাঁকে থাকতে হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমি থেকে দূরে, সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে কঠিন সময়। নিজের হাতে স্বামীকে সুস্থ করে তুলেছেন, সন্তানকে গড়ে তুলেছেন শিক্ষায়, মূল্যবোধে।

যখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারেক রহমানের সব ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়া হয়, তখন সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। ঠিক তখনই এক অসাধারণ উচ্চারণ করেছিলেন ডা. জোবাইদা রহমান। বললেন, ‘ প্রয়োজনে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও আমি আমার স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেব। ‘ এই একটি বাক্যেই ফুটে ওঠে একজন নারীর সাহস, ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগ। এমন একজন নারী শুধু সংসার করেন না ; সংসার গড়ে তোলেন হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে।

ডা. জোবাইদা রহমান একজন মেধাবী চিকিৎসক । ১৯৯৫ সালে বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে মেডিসিনে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন, রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদকসহ গৌরব রয়েছে তাঁর জীবনের খাতায়। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, পেশাদার এবং গভীর জ্ঞানের অধিকারী। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও তাঁর আলাদা সম্মান ও অবস্থান রয়েছে পেশাগত অঙ্গনে।

———————————————————————————————————————————

ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক শেকড় তাঁর। ইতিহাস যাঁর রক্তে প্রবাহমান। তাঁর প্রপিতামহ ডা. খান বাহাদুর আজদার আলী খান। তিনি অবিভক্ত ভারতের বিহার ও আসামে মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। দাদা আহমেদ আলী খান ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টারদের একজন। তিনি ছিলেন আসাম কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। তাঁর চাচা জেনারেল এমএজি ওসমানী । বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় নৌবাহিনী প্রধান। মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু । স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবক।

———————————————————————————————————————————

শ্বশুরবাড়ির রাজনীতির বিশাল ছায়াও রয়েছে তাঁর জীবনের মহিমান্বিতায়। শ্বশুর বাংলাদেশ সেনবাবাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি। শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়া। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। যাঁকে আজও ভোটে হারাতে পারেনি কেউ।

আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে চারদিকে কোলাহল, আত্মপ্রচার আর কৃত্রিমতা, সেখানে ডা. জোবাইদা রহমান নীরব থেকে গড়ে তুলেছেন এক আস্থা, এক সম্ভাবনার ছায়া। তিনি সরাসরি রাজনীতিতে আসুন বা না আসুন ; তাঁর সংযম, বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা ও রুচিবোধ তাঁকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের বিকল্প নেতৃত্বের প্রতীক করে তুলেছে। ডা. জোবাইদা রহমান কেবল একজন স্ত্রী নন, কেবল একজন চিকিৎসক নন ; তিনি একজন জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন ত্যাগে গড়া, মেধায় গড়া, ঐতিহ্যে গড়া।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে এমন একজন মার্জিত, সাহসী, শিক্ষিত ও নৈতিকতায় উজ্জ্বল নারীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আমাদের আশা জাগায়।
আমার হৃদয়ের গভীর থেকে বিশ্বাস ; তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে তারেক রহমানের আগামীর দিনগুলো এমনভাবে সাজাতে সাহায্য করবেন, যা একদিন বাংলাদেশের ইতিহাসে সোনালি অধ্যায় হয়ে লেখা থাকবে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!