মুফতি উমর ফারুক আশিকী। ২২ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
ইসলামের দৃষ্টিতে সুন্দর ও ভালো অর্থবোধক নামের গুরুত্ব অপরিসীম। নাম শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় বহন করে না, বরং এটি তার ব্যক্তিত্ব, চিন্তা-চেতনা এবং রুচি-অভিরুচিরও পরিচায়ক। একটি সুন্দর নাম মন-মানসিকতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঠিক তেমনই একটি মন্দ নাম ব্যক্তির ওপর কিছু না কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যদি কোনো নাম শরিয়ত পরিপন্থী হয় বা খারাপ অর্থ বহন করে, তবে তা পরিবর্তন করা জরুরি।
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ ও অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে দিতেন। (সুনানুত তিরমিজি, ২৮৩৯)
সাহাবিদের জীবনেও নাম পরিবর্তনের বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, উমর (রা.)-এর এক মেয়ের নাম ছিল আসিয়া যার অর্থ অবাধ্য বা ‘পাপী’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে জামিলা রাখেন, যার অর্থ সুন্দরী। (সহিহ মুসলিম, ২১৩৯)
এছাড়াও আরও অনেক সাহাবির নাম পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-এর আসল নাম ছিল আবদে শামস (সূর্যের দাস), যা পরিবর্তন করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাখেন আবদুর রহমান (রহমানের বান্দা)।
অতএব, যদি আপনার বর্তমান নামটি অনৈসলামিক হয় অথবা এর অর্থ খারাপ হয়, তাহলে নিজের জন্য একটি সুন্দর ও ভালো অর্থবোধক ইসলামিক নাম নির্বাচন করা উচিত। ইসলামে নাম পরিবর্তনের জন্য নতুন করে আকিকা দেওয়া বা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, অনেক মুসলিম তাদের সন্তানদের আধুনিক ও শ্রুতিমধুর নাম রাখতে আগ্রহী হন। তবে নামের অর্থের দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এমন নাম পরিহার করা উচিত যা আল্লাহর গুণবাচক নামের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত (যেমন শুধু ‘রহমান’ বলা) অথবা যা কোনো মূর্তি বা পৌত্তলিকতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
নাম পরিবর্তনের এই বিষয়টি শুধু ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয়ের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সমাজের অন্যদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। একটি সুন্দর নাম যেমন ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও ভালো ধারণা তৈরি করে। তেমনই একটি মন্দ নাম বিরূপ ধারণার জন্ম দিতে পারে। মনে রাখবেন, সুন্দর নাম শুধু একটি শব্দ নয়, এটি আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
Leave a Reply