দিশারী ডেস্ক।। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ |
জুলাই অভ্যুত্থানের পরও সামাজিক সংঘাতের বড় কারণ রাজনৈতিক ও আর্থিক সংশ্লেষ। এই দুই কারণে সমাজে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। দালাল এবং সমাজে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারাই এ কাজগুলো বেশি করছে। আইনের শাসনের অভাব ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তা রয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার দুর্বল। এ কারণে মবের মতো ‘সহিংস বিকল্প সরকার’ সৃষ্টি হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক ওয়েবিনারে সোমবার এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বক্তারা। ‘ আনপ্যাকিং দ্য মোড অ্যাট দ্য হাউসহোল্ড লেবেল’ শিরোনামের এই ওয়েবিনারটি পিপিআরসির ভার্চুয়াল সিরিজের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
গত আগস্টে ‘ ইকোনমিক ডায়ানমিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫ ’ নামে একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পিপিআরসি। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে পরিসংখ্যান তুলে আনা হয়। পরিসংখ্যানের বাইরে পারিবারিক পর্যায়ে বাস্তবতা, মনোস্তত্ত্ব ও আগামীর পরিকল্পনা কি– তা বোঝার উদ্দেশ্যে ওয়েবিনারটির আয়োজনটি করা হয়।
গতকাল অনুষ্ঠানের শুরুতেই ওই জরিপ প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ তুলে ধরেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
———————————————————————————————————
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত তিন বছরের ব্যবধানে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে ১০ শতাংশের মতো। গত বছরের আগস্টের পর পুলিশ ও রাজনীতিকদের ঘুষ ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দল রয়েছে। এগুলো উদ্বেগের মূল জায়গা। মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। তবে ৫৪ শতাংশ বলেছেন, তারা আশাবাদ জিইয়ে রাখতে চান। ৫৬ শতাংশ রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলেছেন।
———————————————————————————————————
আলোচনায় সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে একটা পরিবর্তনের আশা ছিল। তবে সেটা হয়নি। বরং নতুন করে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যুবকদের মধ্যে যাদের লড়াকু মনোভাব নেই, তাদের বিষয়টি উদ্বেগের। এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে।
লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ পিপিআরসির গবেষণার সূত্র ধরে বলেন, ৫৪ শতাংশ মানুষ আস্থা রাখছে, মানে ৪৪ শতাংশ মানুষ আর ভরসা রাখতে পারছে না। সেটাও উদ্বেগের। যে দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, দুটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে– সেখানে এখনও কেন লড়াই করে বাঁচতে হবে। সময় যত যাচ্ছে, সমাজে পারস্পরিক ঘৃণা ততই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক আসিফ বিন আলী বলেন, অনেক পরিবারের আয় কমেছে, ব্যয় বাড়ছে। যুব শ্রেণির একটা বড় অংশ হাল ছেড়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ যুবকরা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ছুড়ে ফেলেছে। তাদের ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।
Leave a Reply