দিশারী ডেস্ক।। ২৮ অক্টোবর, ২০২৫।।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি ও উৎকর্ষতা ছড়িয়েছে মূলত ইন্টারনাল মেডিসিনকে কেন্দ্র করে। একজন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রোগের চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞই হচ্ছেন কেন্দ্রীয় চিকিৎসক। রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস নিয়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে জ্বর, বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক, অসংক্রামক রোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার, কিডনি, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, অ্যানিমিয়া, গ্যাস্ট্রিক, আলসার ও হজমের সমস্যাসহ নানা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তারা।
——————————————————————————–
অজ্ঞতায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের দুয়ারে বাড়ছে রোগীর ভিড়
——————————————————————————
তবে রোগের মাত্রা ও ধরন অনুযায়ী যদি কোনো ইন্টারভেনশনাল কাজের প্রয়োজন হয় তখন রোগীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের কাজে রেফার (প্রেরণ) করেন একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। বিশ্বজুড়ে এটিই রীতি। কিন্তু আমাদের দেশে এই রেফারেল প্রথা না থাকায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের দুয়ারে দুয়ারে ভিড় করছেন রোগীরা। এতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, আমাদের দেশে রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই ত্রুটিপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে একজন রোগীকে প্রথমে জেনারেল প্র্যাকটিশনার বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হয়। তিনি রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
তাদের মাধ্যমে রেফার করা রোগীরাই মেডিসিনের বিভিন্ন শাখা যেমন নিউরোলজি, নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, এন্ডোক্রাইনোলজি ও সাইকিয়াট্রিসহ নানা বিভাগের বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে রেফারেল সিস্টেম চালু না থাকায় অনেক চিকিৎসকের মধ্যে রোগী রেফার করা নিয়ে দৈন্যতা দেখা যায়। অথচ শুরুতে যদি কোনো রোগী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা জেনারেল প্র্যাকটিশনারের কাছে যেতেন, তাহলে তিনি উপযুক্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করতে পারতেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, পায়ের ব্যাথা নিয়ে একজন রোগী শুধুমাত্র অজ্ঞতার কারণে একবার নিউরোলজিস্টের কাছে যাচ্ছেন, একবার ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যাচ্ছেন এবং আবার যাচ্ছেন রিউমেটোলজিস্টের কাছে। অথচ প্রাথমিক রোগ নির্ণয় শেষে কার কাছে যাবেন, সেই সিদ্ধান্তটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞেরই দেয়ার কথা। এতে রোগীদের সময়ের সাথে সাথে অর্থেরও অপচয় হচ্ছে।
এদিকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা, মেডিসিন বিভাগের অধীনে ওয়ার্ড রয়েছে অতিব স্বল্প। তাতে সরকার অনুমোদিত বেড রয়েছে আরো হাতেগোনা।
কিন্তু তিন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি থাকে প্রায় আড়াইগুণ। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণায় রোগী ভর্তি দিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাঁটার পথ ও বারান্দার মেঝেতেও রোগী ভর্তি থাকছে। ওয়ার্ডের বাইরে হওয়ায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় অঙিজেন সরবরাহও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, জায়গার সংকুলান না হলেও আমরা তো চাইলেই কোনো রোগীকে ভর্তি না দিয়ে ফেরত দিতে পারি না। ফলে মেঝেতে বসে আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা দিতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, আমরা মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা কেবল রোগীর চিকিৎসা দেয়ার কাজ করছি না। একইসাথে রোগের উৎপত্তি ও প্রতিরোধের বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছি। এছাড়া আমরা সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি এন্টিভেনম তৈরিতে গবেষণার সাথে যুক্ত আছি। আবার অতীতে কোভিড মোকাবেলা, সাম্প্রতি সময়ে ডেঙ্গু–চিকুনগুনিয়াসহ ম্যালেরিয়া ও বিভিন্ন মহামারি মোকাবেলায় সব সময় কাজ করে যাচ্ছি।
অপরদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার আমাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে বিভিন্ন ওয়ার্ডও আমরা তত্ত্বাবধান করছি। ভবিষ্যতে বিভিন্ন মেডিসিন ওয়ার্ড এবং বয়স্কদের জন্য জেরিয়াট্রিক ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
Leave a Reply