দিশারী ডেস্ক।। ০৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা (Water Lily) কেবল খাল-বিল বা পুকুরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি পুষ্টিগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যের এক অফুরন্ত ভান্ডার। প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে থাকা এই জলজ উদ্ভিদের ডাঁটা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। একসময় কেবল গ্রামাঞ্চলে এর চল থাকলেও, বর্তমানে শহরেও শাপলার কদর বে
প্রাচীন মিসর ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাতেও সাদা ও নীল শাপলার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শাপলার লতা বা ডাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য কিছু উপাদানে ভরপুর। পুষ্টিবিদদের তথ্যমতে, শাপলায় আলুর চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ক্যালশিয়াম রয়েছে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
———————————————————————————————————-
প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলার লতা বা ডাঁটার পুষ্টি উপাদান : উপাদান পরিমাণ, ক্যালোরি ১৪২ কিলো, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম, প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, আঁশ ১.১ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম
———————————————————————————————————-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শাপলা গ্রহণ করলে :
ক্যানসার প্রতিরোধ : শাপলাতে আছে গ্যালিক এসিড এনজাইম, যা ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : এটি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার।
হৃদযন্ত্র ও উচ্চ রক্তচাপ : শাপলার ফ্লেভনল গ্লাইকোসাইড মাথায় রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে এবং মাথা ঠান্ডা রাখে। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শরীরকে শীতল রাখার কারণে উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও এটি খেতে পারেন। হৃদরোগের দুর্বলতা কমাতেও শাপলা ফুল অপরিহার্য।
কোলেস্টেরল ও লিভার : শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে শাপলা কার্যকর। এছাড়াও, এটি যকৃতের ক্ষতি প্রতিরোধ করে লিভার নিরাময় করতে সহায়তা করে।
চর্মরোগ ও আমাশয় নিরাময় : লাল শাপলা অ্যালার্জি এবং রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। এটি প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা সমাধানেও উপকারি ভূমিকা রাখে।
ঘরোয়া নিরাময় টিপস : হৃদরোগের দুর্বলতা কমাতে পাঁচ গ্রাম গোলাপ ফুল এবং ১০ গ্রাম শাপলা ফুলের সঙ্গে দুই কাপ পানি মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে নিয়মিত এক মাস দিনে দুবার পান করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
Leave a Reply