প্রোটিন কম খেলে কি আয়ু বাড়ে ?

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

সুস্থ ও দীর্ঘজীবন পেতে হলে বেশি প্রোটিন খাওয়া চাই। এমনটিই আমরা এতদিন শুনে এসেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম প্রোটিন গ্রহণ করলে কিছু নির্দিষ্ট অ্যামাইনো অ্যাসিড সীমিত হয়ে যায়। ফলে বার্ধক্যের গতি হয় ধীর, যা আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৩১ জুলাই প্রকাশিত এই গবেষণায় ৩৫০টির বেশি পরীক্ষাগার ও প্রাণীভিত্তিক গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, পরিমিতভাবে প্রোটিন কমালে বিপাকক্রিয়া উন্নত হতে পারে, প্রদাহ কমতে পারে এবং কোষের ক্ষতি হ্রাস পেতে পারে।

আয়ু বাড়ার ইঙ্গিত

গবেষকদের বিশেষ আগ্রহের জায়গায় ছিল মেথিওনিন, আইসোলিউসিন ও ভ্যালিন নামের ৩টি অ্যামাইনো অ্যাসিড। এগুলো প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অ্যামাইনো অ্যাসিড সীমিত করলে আয়ু বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। একটি গবেষণায় মধ্যবয়সী পুরুষ ইঁদুরের খাদ্যে ভ্যালিন কমিয়ে তাদের আয়ু প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রোটিন কম খেলে শরীরে কিছু উপকারী পরিবর্তন ঘটতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। যেমন, এফ জি এফ টুয়েন্টি ওয়ান নামের একটি হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে, যা বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কোষের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিষ্কার করে নতুন উপাদান তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ‘অটোফ্যাজি’ সক্রিয় হতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা ভালো হওয়া এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমার সঙ্গেও প্রোটিন সীমিত করার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

প্রমাণ এখনও সীমিত

তবে এখানেই সতর্কতা জরুরি। এখন পর্যন্ত দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ এসেছে প্রাণী গবেষণা থেকে। মানুষের ক্ষেত্রে প্রোটিন কমালে আয়ু বাড়ে এমন সরাসরি প্রমাণ এখনও নেই। তাই গবেষণার এই ফলকে এখনই সবার জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের নির্দেশনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সবার জন্য নয়

আর সবার জন্য কম প্রোটিন খাওয়াও উপযোগী নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ক্ষয় রোধে অনেকেরই বরং বেশি প্রোটিন প্রয়োজন হয়। সাধারণভাবে বয়স্কদের প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ১ থেকে ১ দশমিক ২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে। পেশি ক্ষয় বা বিশেষ কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
শিশু-কিশোর, গর্ভবতী নারী, ক্রীড়াবিদ এবং অসুস্থতা বা আঘাত থেকে সেরে ওঠা মানুষেরও প্রোটিনের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

ভারসাম্যটাই গুরুত্বপূর্ণ

তাই দীর্ঘায়ুর আশায় হঠাৎ প্রোটিন কমিয়ে দেওয়ার আগে নিজের বয়স, শাররিক পরিশ্রম, ওজন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ, সবার শরীরের চাহিদা এক নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন যেমন উপকারী নাও হতে পারে, তেমনি প্রয়োজনের চেয়ে কম প্রোটিনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য তাই কোনো একক খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম ও পরিমিত খাবারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হেলথলাইন ডট কম ।।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!