বিয়ে-তালাকের প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ পাঠক

আহসান হাবিব বরুন।।। ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

বিয়ে একটি পবিত্র সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন। সামাজিক কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর এবং পারস্পরিক বিশ্বাস, দায়বদ্ধতা ও আইনি সুরক্ষার চূড়ান্ত রূপ হলো বিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে এই পবিত্র বিধান ও প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে যে ধরনের প্রতারণা, তথ্য গোপন ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটেছে, তা সচেতন সমাজকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলছে।

একটি সুস্থ সমাজের মূল ভিত্তি যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সততা, সেখানে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় বিদ্যমান ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর ভণ্ড ও প্রতারক চক্র প্রতিনিয়ত জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করে চলেছে। এই অশুভ চর্চা বন্ধে এবং পারিবারিক জীবনের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে ডিজিটাল নিবন্ধনের যে পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে, তা সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সম্প্রতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, দেশের ঐতিহ্যগত বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের সবচেয়ে যুগান্তকারী দিক হলো—অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থাটিকে পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে সরাসরি সংযুক্ত বা ইন্টারলিংক করা হবে। রাষ্ট্রীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তথ্য গোপন করে বহুবিয়ে, বয়সের তথ্য জালিয়াতি করে বাল্যবিয়ে এবং ভুয়া কাবিননামা ও তালাক সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আইনি ও মানসিক প্রতারণার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ পারিবারিক নিরাপত্তা বিধান এবং সামাজিক অপরাধ দমনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং অ্যানালগ বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থার ভয়াবহতা অত্যন্ত করুণ ও আশঙ্কাজনক। সুসংহত ও কেন্দ্রীভূত তথ্য যাচাইয়ের কোনো ডিজিটাল অবকাঠামো না থাকায় দেশের এক অঞ্চলে স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও বহু ব্যক্তি অন্যত্র গিয়ে নিজেকে ‘অবিবাহিত’ বা ‘ডিভোর্সড’ হিসেবে পরিচয় দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

————————————————————————————————————————————–

বিশেষ করে সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা বা অন্যান্য পেশাগত সূত্রে যেসব ব্যক্তি নিয়মিত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তরিত হন, তাদের একাংশের মধ্যে এই ধরনের নীতিহীন প্রবণতা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। নতুন কর্মস্থলে গিয়ে বাস্তব পরিচয় গোপন রাখা, ভুয়া তথ্য বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বিয়ে সম্পন্ন করা এবং পরবর্তীতে সেই সংসারের নৈতিক ও অর্থনৈতিক দায়ভার অস্বীকার করে নিঃশব্দে কেটে পড়া আমাদের সমাজে একটি স্বাভাবিক অপরাধমূলক চিত্রে পরিণত হয়েছে।

এ ধরনের প্রতারণা কেবল সংশ্লিষ্ট নারীর জীবনকে চরম মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা পুরো একটি পরিবারের মৌলিক অস্তিত্ব ও মানবিক মর্যাদা ধূলিসাৎ করে দেয়। ধর্মীয় বিধিবিধান ও প্রচলিত আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র এই পবিত্র সামাজিক সম্পর্ককে কেবল নিজেদের ক্ষণিকের ইচ্ছা পূরণ এবং আর্থিক সুবিধা হাসিলের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে।

————————————————————————————————————————————–

বিয়ের নামে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতির অপব্যবহার এবং নৈতিক ধসের এক জ্বলন্ত ও নিকৃষ্ট উদাহরণ সম্প্রতি দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে। জামায়েত ইসলামের সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে সমাজের অবক্ষয়ের এক চূড়ান্ত নিদর্শন। এই ব্যক্তি ধর্মের লেবাস গায়ে জড়িয়ে ও সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে এক তরুণীর জীবন ধ্বংসের চূড়ান্ত প্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন, তা সামাজিক কাঠামোর অন্ধকার দিকটিকে স্পষ্ট করে তোলে। চাকরির প্রলোভন ও অর্থনৈতিক সহায়তার টোপ ফেলে এক তরুণীকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে সেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে ও জনসমক্ষে মুখ রক্ষার জন্য তিনি ‘দ্বিতীয় বিয়ের নাটক’ সাজান।

কিন্তু নির্মম প্রতারণার এখানেই সমাপ্তি ঘটেনি ; লোক দেখানো সেই প্রতারণামূলক বিয়ের ওর গাজী ও তার প্রথম স্ত্রীর নির্দয় শাররিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়ে অবশেষে আঠারো উনিশ বছর বয়সী অসহায় তরুণী মরিয়ম আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। একজন জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের এই স্তরের ভণ্ডামি ও নিষ্ঠুরতা প্রমাণ করে যে, সমাজে কেবল মুখের নৈতিকতা বা ধর্মীয় পোশাক যথেষ্ট নয় ; বরং সেখানে রাষ্ট্রীয় আইনের কঠোর তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা কতটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যদি কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটালাইজড বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা সচল থাকত, তবে গাজী নজরুলের মতো সুযোগসন্ধানী প্রতারকদের পক্ষে এভাবে গোপনে ফাঁদ পাতা এবং দ্বিতীয় বিয়ের জালিয়াতিপূর্ণ নাটক সাজানো সম্ভব হতো না।

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনে আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনের কারণ ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অ্যানালগ পদ্ধতির নানা সীমাবদ্ধতাই আজ সামাজিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় বাধা। প্রথমত, তথ্য গোপনে বহুবিবাহ রোধে ডিজিটালাইজেশনের ভূমিকা অনন্য। এতদিন পর্যন্ত দেশের এক কাজী অফিসের রেজিস্টার খাতার তথ্যের সাথে অন্য কাজী অফিসের খাতার কোনো সমন্বিত বা ডিজিটালাইজড ডেটাবেজ ছিল না। ফলে একজন ব্যক্তি দেশের এক প্রান্তে বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও অন্য প্রান্তের কাজীর কাছে গিয়ে খুব সহজেই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নতুন বিয়ে করতে পারত। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিবাহ নিবন্ধনের প্রাক্কালে এনআইডি নম্বর ইনপুট দেয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক স্থিতি বা পূর্ববর্তী তালাকের আইনি ও সঠিক তথ্য স্ক্রিনে ভেসে ওঠবে, ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিবাহ নিবন্ধনের কোনো অবকাশ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, বাল্যবিয়েরঅভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে ডিজিটাল নিবন্ধনের সংযোগ অপরিহার্য। জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সাথে বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা যুক্ত থাকলে আইনগতভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম বয়স (মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সফটওয়্যার সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেকোনো নিবন্ধন আবেদন প্রত্যাখ্যান করবে। এর ফলে ভুয়া বয়স দেখিয়ে কিংবা কাজীর খাতা জালিয়াতি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা শহরে বাল্যবিয়ে দেয়ার সমস্ত অবৈধ পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

তৃতীয়ত, দেশের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা বিপুল সংখ্যক মামলার জট নিরসনে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে আদালতগুলোতে মামলা মোকদ্দমার একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে ভুয়া কাবিননামা, দেনমোহরের অর্থ জালিয়াতি, তথ্য গোপন করে বিয়ে এবং বিবাহের অস্তিত্ব অস্বীকার সংক্রান্ত জটিলতা। হস্তলিখিত কাজীদের রেজিস্টার খাতায় জালিয়াতি করা, পেছনের তারিখে স্বাক্ষর বসানো কিংবা ভুয়া বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করার যে সুযোগ ছিল, সেন্ট্রাল ডেটাবেজ চালু হলে তা চিরতরে বন্ধ হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত বিবাহের একটি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও প্রমাণ থাকবে, যা আইনি বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনবে।

————————————————————————————————————————————–

চতুর্থত, নারীদের আইনগত ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে এই ব্যবস্থা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, অনেক প্রতারক পুরুষ বিবাহের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কাবিননামা রেজিস্ট্রি না করে ভুয়া কাগজে সই নিয়ে নারীদের বিশ্বাস ভঙ্গ করে। পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে বা দেনমোহর ও খোরপোষের দাবি উঠলে সেই পুরুষ অনায়াসে বিয়ের অস্তিত্বই অস্বীকার করে বসে। অনলাইন সেন্ট্রাল ডেটাবেজে তথ্য সংরক্ষিত থাকলে যেকোনো মুহূর্তেই বিয়ের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে, যা নারীদের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

————————————————————————————————————————————–

এখানে আমি এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, প্রযুক্তিগত এই যুগান্তকারী পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষ জনবল তৈরির গুরুত্ব অপরিসীম। আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব কাজীদের পর্যায়ক্রমে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় অভ্যস্ত করার যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, তা প্রয়োগকারী জনবল যদি সৎ ও দক্ষ না হন, তবে তার শতভাগ সুফল পাওয়া অসম্ভব। একই সাথে সাব-রেজিস্ট্রার ও কাজী অফিসগুলোর দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দিতে যে প্রশাসনিক তদারকি ও সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, তা দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

তবে রাষ্ট্রীয় এই চমৎকার উদ্যোগকে মাঠপর্যায়ে সম্পূর্ণ সফল ও নিখুঁতভাবে পৌঁছে দিতে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা প্রয়োজন। প্রথমত, প্রশাসনিক আইনি নজরদারি অত্যন্ত জোরদার করতে হবে, কারণ ডিজিটাল পদ্ধতির বাইরে গিয়ে গ্রামে-গঞ্জে কিংবা গোপনে ধর্মীয় মৌলভীদের মাধ্যমে যেসব অনিবন্ধিত বিয়ে সম্পন্ন করা হয়, সেগুলোকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় না আনলে জালিয়াতির বিকল্প পথ খোলা থেকে যাবে।

দ্বিতীয়ত, সর্বস্তরের জনগণের মাঝে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অনুধাবন করতে পারেন যে, অনলাইন রেজিস্ট্রি ও ডিজিটাল সনদ ব্যতীত কোনো বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত ও প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। তৃতীয়ত, তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি অতীব সংবেদনশীল। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ ও পাসপোর্টের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ডেটাবেজের সাথে কাজী অফিসের লিংক স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্তরের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক তথ্যের কোনো প্রকার অপব্যবহার বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা না ঘটে।

পরিশেষে বলতে চাই, পারিবারিক জীবন ও বিয়ের কোনো হেলাফেলার বিষয় নয় ; এটি মানুষের জীবনের পরম অনুভূতি, দুটি পরিবারের মেলবন্ধন এবং সার্বিক সামাজিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে বা সামাজিক প্রভাব বিস্তার করে যারা মানুষের সরল আবেগ, বিশ্বাস ও জীবন নিয়ে প্রতারণার খেলা খেলে, তারা মূলতঃ পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। গাজী নজরুলের মতো অমানবিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু আইনি বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে এমন এক মজবুত আইনি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষাবলয় গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো প্রতারক তথ্য গোপন করে কোনো নিরীহ মানুষের জীবন ধ্বংস করার দুঃসাহস না পায়।

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনলাইন বিয়ের ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং এর সাথে এনআইডি ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের মেলবন্ধন বাংলাদেশের আইনি, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।

এই উদ্যোগ নিরবচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হলে সামাজিক অপরাধ, পারিবারিক কলহ ও বহুমুখী প্রতারণা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং একটি ন্যায়পরায়ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে ইনশাল্লাহ। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!