আসল ভেবে নকল প্রসাধনী মাখছে মানুষ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ১৪৪ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।৯ জানুয়ারি, ২০২৫

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির নাম ও মোড়ক লেজার প্রিন্টের মাধ্যমে হুবহু নকল করে তৈরি হচ্ছে দামি প্রসাধনী। এসব পণ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। ফলে এসব ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ভোক্তারা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পণ্য তৈরিতে প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তে দেওয়া হয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। ফলে দেখতে একই মনে হওয়ায় প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। আসল ভেবে ব্যবহার করছেন নকল প্রসাধনীই।

নকল প্রসাধনী তৈরির আখড়া হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকা। যেখানে রয়েছে তিন শতাধিক কারখানা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-চকবাজার, লালবাগ, ইসলামবাগ, মৌলভীবাজার, বেগমবাজার, মোগলটুলী, জিনজিরা ও কেরানীগঞ্জ। এসব এলাকার কারখানা থেকে বিভিন্ন হাত ঘুরে মানহীন পণ্যগুলো বড় বড় সুপারশপ, বিপণিবিতান ও মফস্বলে ছড়িয়ে পড়ছে।

—————————————————————————————

ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় নিজ বাসায় মাটি দিয়ে চন্দনসহ বিভিন্ন নকল প্রসাধনী তৈরি করেন মো. ফয়সাল। এসব পণ্যে প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তে ব্যবহার করেন ক্ষতিকর পদার্থ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নকল ও ভেজাল প্রসাধনী তৈরি করে রাজধানীর চকবাজারে পাইকারি মূল্যে বিক্রি করে আসছেন। তার কারখানা থেকে পণ্য চলে যায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

ভেজাল পণ্য তৈরির দায়ে র‌্যাবের অভিযানে তাকে আটকসহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছিল। পরে নতুন করে আবারও শুরু করেন এবং বর্তমানে প্রসাধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। পাশাপাশি ব্যবসা বৈধ করতে বিভিন্ন কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছেন তিনি। তিনি ছাড়াও একই এলাকার ব্যবসায়ী সুরোজ মিয়া। আগে তিনি অন্যের কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে নিজেই একটি টিনশেড রুম ভাড়া নিয়ে শুরু করেন কুমারিকা ও প্যারাস্যুটের বিভিন্ন তেল নকল করা। পরে সেগুলো রাজধানীর চকবাজার ও মৌলভীবাজারে বাজারজাত করেন বলে জানান।

—————————————————————————————-

সরেজমিন ঢাকার কেরানীগঞ্জে দেখা যায়, ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে বিদেশি নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোড়কে তৈরি করছেন নকল প্রসাধনী। এখানে তৈরি হচ্ছে বিদেশি বিভিন্ন ব্যান্ডের লিপস্টিক, নেইলপলিশ, আইলাইনার, মাস্কারা, ফেস পাউডার, ফাউন্ডেশন, হাইলাইটার, চন্দন, শ্যাম্পু ও তেলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী।

একটি দোকানে বিশ্বখ্যাত ওলে ব্র্যান্ডের প্রসাধনী থাকলেও কোনোটির গায়ে বাংলায় লেখা স্টিকার ও বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন নেই। একই চিত্র দেখা গেল বেগমবাজারে প্রসাধনীর একটি পাইকারি দোকানেও। কোনো প্রসাধনীর গায়েই বাংলায় স্টিকার নেই।

এ ছাড়াও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘুরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাসা ভাড়া নিয়ে কারখানা বানিয়ে বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের ক্রিম তৈরি করা হচ্ছে। পণ্য নকলের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই এলাকার একটি কারখানার মালিক ফারুক সময়ের আলোকে বলেন, সবাই তো নকল করে-আসল পণ্য কে তৈরি করে ? আগে কারখানা কোথায় ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় যখন কারখানা ছিল তখন সাংবাদিক ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালাতে হতো। পরে জানাজানি হলে বর্তমান ঠিকানায় চলে আসি। এখানে কেউ আসেন না। ছয় মাস ধরে এখানে আছি। এখান থেকে পণ্য তৈরি করে চকবাজারে পাঠিয়ে দিলে সারা দেশে চলে যায়।

একই থানাধীন আব্দুল্লাপুরের নাজিরপুর এলাকায় একটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন লোক বিভিন্ন ক্রিম, লোশন ও স্পেনের অলিভ অয়েল বোতলজাত করছেন। তাদের কাজটা কী জানতে চাইলে বলেন, আমাদের মহাজন ড্রামে এগুলো রেডি করে দিয়ে গেছেন, আমরা কৌটা ও বোতলে ভরছি। আমরা এর বেশি কিছু জানি না। কারখানায় কেমিস্ট আসেন কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের একটা ল্যাব আছে। কিন্তু কেমিস্ট নেই। আমাদের মহাজনই ক্রিম তৈরি করেন। এগুলো কোথায় বিক্রি করা হয় আমরা জানি না।

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোয় বিশ্বমানের ব্র্যান্ড গার্নিয়ার, লরেল, রেভলন, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নিভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান, সুগন্ধির মধ্যে হুগো, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা, অলিভ অয়েল, কিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন, জনসন, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, প্যানটিন প্রো-ভি ও হারবাল এসেনশিয়াল লোশনের নামে ভেজাল প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে বেশি।

রাজধানীর নারিন্দা এলাকার এক গৃহবধূ মোড়কে পাকিস্তানে তৈরি লেখা ত্বক ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করে ত্বকের সমস্যায় পড়েন। তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্নও হতে হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর অভিজাত একটি মার্কেটের শোরুম থেকে জেবরুন নাহার জলি নামের এক ক্রেতা একটি ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু কেনেন। ব্যবহারের কয়েক দিন পর তিনি লক্ষ করেন ধীরে ধীরে তার চুল ওঠে যাচ্ছে ; যা আগে কখনো হয়নি। ভাবনায় পড়ে যান আয়েশা আক্তার। কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে তারা শ্যাম্পুর বোতলটি দেখে জানান, শ্যাম্পুটি আসল নয়।

এদিকে ত্বক ফর্সা হওয়ার জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে একটি ক্রিম কেনেন ফারজানা আক্তার। দুদিন ব্যবহার করতেই তার মুখে ছোট ছোট দানা দেখা দেয়। পরে ডাক্তারের পরামর্শ নিলে জানা যায় ক্রিমটি ছিল নকল। দেখতে চকচকে হলেও এটি তৈরি হয়েছিল ভেজাল কাঁচামাল ও কেমিক্যাল দিয়ে।

অন্য ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে গিয়ে কোনটি আসল, কোনটি নকল বোঝা কঠিন। কারণ হাত বাড়ালেই মিলছে ভেজাল প্রসাধনী। এখন আসল পণ্যের মতোই মোড়ক নকল করে বাজারে ছাড়ছে এসব পণ্য। তা ছাড়া অনলাইনভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা নানা প্রলোভন দেখিয়ে নকল পণ্য বিক্রি করছে। কারণ সেসব পণ্যে অধিকাংশই নকল।

দিনের পর দিন এভাবে মানহীন পণ্য বেচাকেনা হলেও সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তা ছাড়া প্রতিনিয়ত আসল প্রসাধনী চিনতে না পেরে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ ক্রেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইনে লোভ দেখানো বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে কিনছেন ভেজাল পণ্য। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পড়ছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও।

ঢাকা চকবাজারের ব্যবাসায়ী মো. আনাস বলেন, আমাদের কাছে সব ধরনের কসমেটিকস পাওয়া যায়। অধিকাংশ পণ্য চায়না থেকে আসা আর কিছু রয়েছে দেশি। দুটি পণ্যের মধ্যে অর্ধেকের বেশি দামের পার্থক্য রয়েছে। তবে এগুলোকে আসল বললেও তৈরি হচ্ছে দেশেই। তা ছাড়াও পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় তৈরি হয় না এমন পণ্য নেই। এখানের পণ্য নামি-দামি শোরুমেও বিক্রি হচ্ছে। আর নামি-দামি ব্র্যান্ডের খালি বোতল জোগাড় করা হয় ভাঙাড়িওয়ালার মাধ্যমে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেগমবাজারের এক প্রসাধনী ব্যবসায়ী বলেন, নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের প্রসাধনী নকল হচ্ছে। আবার একটি প্রতিষ্ঠান একটি চালানের অনুমোদন নিয়ে কয়েকটি চালান আনছে অনুমোদন ছাড়া।

শুধু দেশি নয়, বিশ্বখ্যাত কোম্পানির পণ্যেও ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাচ্ছে। ইভান প্লটকিন নামে এক মার্কিনি বছরের পর বছর জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহারের পর অসুস্থ বোধ করেন। জনসনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করায় তিনি মিসেথেলিওমা নামে বিরল এক ক্যানসারে আক্রান্ত হন। পরে জনসনকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

———————————————————————————————–

নকল প্রসাধনী ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে কন্টাক্ট ড্রাইমাট্রাসিস তৈরি হয়। কেউ যখন নকল প্রসাধনী ব্যবহার করে তখন চামড়া সেটি গ্রহণ না করে প্রতিক্রিয়া করে। ফলে প্রথমে চুলকানি পরে ইনফেকশন-ইনফরমেশন হয়ে পুঁজ ও ক্ষত এবং ক্যানসারও হতে পারে। এসব কিছু না হলেও দাগ দূর করার ক্রিম উল্টো আরও দাগ তৈরি করে। নকল প্রসাধনী সম্পর্কে খুবই সাবধান থাকতে হবে। নারীদের পাশাপাশি অনেক পুরুষও এখন ব্যবহার করে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এসব প্রসাধনীতে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। ফলে এগুলো বাংলাদেশের মানুষের ত্বক নিতে পারে না। তবে সবকিছু পরিমাণ মতো থাকলে কোনো সমস্যা ও প্রদাহ হবে না। সেটি দেশি বা বিদেশির ক্ষেত্রে একই অবস্থা।

———————————————————————————————–

তিনি আরও বলেন, দেশে বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে নকল পণ্য বাজারে ছাড়া হয়। জিনজিরা ছাড়াও অনেক এলাকায় এসব পণ্য তৈরি হচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। তাই দ্রুত বন্ধ করা উচিত। ভেজাল কোনো প্রসাধনী বিক্রি ও বিজ্ঞাপন প্রচারণা থেকে বিরত রাখতে হবে। সব পণ্য যেন আন্তর্জাতিক মান ও বিএসটিআই অনুমোদিত হয় সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। ভোক্তাদের সবার আগে সাবধান হতে হবে। প্রতিদিন আমাদের কাছে চর্ম সমস্যার জন্য অসংখ্য রোগী আসেন। তাদের অধিকাংশ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে আক্রান্ত। বাজারে কত পরিমাণ ভেজাল পণ্য আছে বিএসটিআই যদি চিহ্নিত করতে পারে তা হলে এগুলো বন্ধ করা সহজ হবে।

প্রসাধনী কিনতে গিয়ে আসল-নকল নিয়ে ক্রেতারা সন্দিহান থাকেন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক  বলেন, নকল প্রসাধনী নিয়ে নানা সময় কথা হলেও তা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নকল পণ্য তৈরি, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিচার হয়েছে এমন কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এসব কসমেটিকস তৈরি করে অধিক লাভবান হওয়া যায় বলে অনেকেই এই পথে হাঁটছে। এসবের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বাজারজাতকরণের ফলে মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই বিষয়টি খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক অনেক কারখানা রয়েছে। এসব এলাকার আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভেজাল প্রসাধনী বন্ধের বদলে নিরাপত্তা দিচ্ছেন তারা।

এসব প্রসাধনী ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নকল পণ্য ব্যবহারের ফলে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে আরও টাকা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নকল পণ্য তৈরি বিষয়টি বন্ধের জন্য এখন পর্যন্ত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভেজাল পণ্য প্রকাশ্যে বিক্রি ও বিজ্ঞাপন প্রচার করছে অথচ নেই কোনো আইনি ব্যবস্থা। সরকারের উচিত শক্ত হাতে এসব দমন করা। একটি দেশে প্রসাধনীর প্রায় ৮০ শতাংশ যদি নকল হয় তা হলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বেই। তবে বিষয়টি একদিনে তৈরি হয়নি।

——————————————————————————————

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, আমাদের কার্যক্রম সবসময় চলমান রয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যখনই অভিযোগ পাই সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালিত হয়। তবে আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। কারণ অভিযোগ পাওয়ার পর পুরান ঢাকায় যেতে যেতে ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কম দামে প্রসাধনী কিনতে গিয়ে নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন অনেকে। তাই এগুলো যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো। বাজারে ভেজাল ভোগ্য পণ্য ও নকল প্রসাধনী বিক্রির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ও নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।

——————————————————————————————

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) এক কর্মকর্তা  বলেন, বিএসটিআই একটি পণ্যকে অনুমোদন দেয়ার জন্য তার গুণগত মানকে প্রথমে নির্ধারণ করে। সেই মান নির্ধারণ করার পর বিএসটিআইয়ের ২৭টি কমিটির মাধ্যমে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পণ্যটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। মান নির্ধারণ করতে কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ২৯৯টি পণ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেগুলোর উৎপাদন করতে হলে অবশ্যই বিএসটিআই অনুমোদন লাগবে। এর মধ্যে কোনো একটি পণ্য যদি অনুমতি না নিয়ে উৎপাদন বা তৈরি করা হয়, তা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সৌজন্যে : একটি ভিন্ন জাতীয় দৈনিক।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!