যে রোগে আক্রান্ত হন কম বয়সীরাও

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫
  • ৪১ পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ১৭ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

শুধু বয়স্কদের নয়, কম বয়সীদেরও হয় পারকিনসন্স রোগ। এই রোগে যারা আক্রান্ত হন তাদের ৮৫ শতাংশের কারণ জানা যায় না। তবে ধারণা করা যায় ৫ শতাংশের হয় জিনগত কারণে। আর তারাই হচ্ছেন কম বয়সী। ব্রিটেনে প্রতি ৫০০ জনে একজন এই রোগে আক্রান্ত হলেও বাংলাদেশে কতজন আক্রান্ত হয় তার নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তবে আগের তুলনায় চিকিৎসকরা এই রোগে আক্রান্ত রোগী বেশি পাচ্ছেন। তারা বলেছেন, বয়স্কদের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে পারকিনসন্স রোগ বেড়েছে।

১৮১৭ সালে ইংরেজ শল্য চিকিৎসক জেমস পারকিনসন্স এই রোগটি সম্পর্কে প্রথম বর্ণনা করেন। তার নামানুসারেই রোগটির নামকরণ করা হয় এবং তার জন্মদিনে ১১ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পারকিনসন্স দিবস পালন করা হয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের (নিনস) সহযোগী অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী বলেন, পারকিনসন্স হচ্ছে মস্তিষ্কের একটি রোগ। ডোপামিন তৈরি করা সেলগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ডোপামিন তৈরি কমে যায়। এ জন্য কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন : হাত কাঁপে, হাত-পা শক্ত হয়ে যায়, হাটাচলায় ধীরগতি চলে আসে।

এ ছাড়া আরও কিছু সমস্যা হয়। যতই দিন যায়, ততই রোগটি বাড়তে থাকে। কারও কারও রোগটি খুব আস্তে বাড়ে। আবার কারও কারও খুব দ্রুত বেড়ে যায়। সাধারণত বয়স্কদের হয় ; যাদের বয়স ৫০-এর বেশি। রোগটি পুরুষদেরই বেশি হয়ে থাকে। বয়স্কদের পাশাপাশি অনেক তরুণেরও রোগটি হয়।

ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের (নিনস) চিকিৎসক হুমায়ুন কবির হিমুর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ১০০ রোগীর মধ্যে ১২ থেকে ১৩ জন পান পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত। তিনি বলেন, আক্রান্তদের প্রায় ৮৫ শতাংশের ক্ষেত্রে কারণ জানা যায় না। দশ শতাংশের মধ্যে পারকিনসন্সের তীব্র লক্ষণ থাকে। আর পাঁচ শতাংশের জিনগত কারণ থাকতে পারে। যারা তরুণ ধারণা করা হয় জিনগত কারণে তারা এই রোগে আক্রান্ত হন।

——————————————————————————————————————

এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী বলেন, শরীরে কাঁপুনি, হাতের রেখা ছোট হয়ে যাওয়া, গন্ধ না পাওয়া, হাঁটতে সমস্যা হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, গলার স্বর নেমে যাওয়া, মাথা ঘোরানো, কুঁজো হয়ে হাঁটা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ বিশেষ করে শরীরে কাঁপুনি দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। না হলে এ রোগটিতে অকাল মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসকের কাছে গেলে লক্ষণ বুঝে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা দেয়া গেলে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

——————————————————————————————————————

চিকিৎসকরা জানান, এই রোগের দুই ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। ওষুধ এবং অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। তবে দেশে খুব একটা অপারেশন হয় না। মাত্র সাতজনের অপারেশন হয়েছে। তাও এ পর্যন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে। অপারেশন খুবই ব্যয়বহুল। অপারেশনের জন্য একজনই বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। নিনসের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী ছাড়া আর কেউ এই অপারেশনটি করেন না।

এই রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী বলেন, কিছু ওষুধ আছে, সেগুলো প্রয়োগ করলে লক্ষণ প্রশমিত হয়। ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে বাড়িয়ে কন্ট্রোল করা যায়। কিন্তু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে একটা সময় গিয়ে ওষুধ দিয়েও কাভার করা যায় না। ওষুধ ছাড়া অপারেশনের সুযোগ আছে। অপারেশন করে পেস মেকার বসাতে হয়। যেটির (পেস মেকার) দাম ২০ লাখ টাকা। এ জন্য খুব বেশি অপারেশন হয় না। আরেক রকম অপারেশন আছে। তাতে ব্রেইনের একটি অংশ পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!