দিশারী ডেস্ক। ০৩ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
বিজ্ঞানীরা যেখানে বর্জ্যকে ব্যবহার করে অসাধ্য সাধন করছেন, সেখানে ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগানো যাবে না, তা কি হয়? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়া ব্যবহারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনন্য পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন, যেটি বিদ্যুৎ সংগ্রহের মাধ্যমে নিঃশ্বাস নিয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়াটি অক্সিজেন গ্রহণের বদলে চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইলেকট্রন সংগ্রহ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োসায়েন্টিস্ট ক্যারোলিন আজও ফ্রাংকলিন এবং তার গবেষণা দল দীর্ঘদিন ব্যাকটেরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছেন।
—————————-
গবেষণা
—————————
সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সেল-এ প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি জানান, কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের মাধ্যমে নিঃশ্বাস নেয়ার বদলে চারপাশে ইলেকট্রন ছড়িয়ে দেয়। তাদের এ গবেষণার মাধ্যমে জীববিজ্ঞান এবং ইলেক্ট্রো টেকনোলজির সমন্বয় করা আরও সহজ হবে বলে তাদের বিশ্বাস। ব্যাকটেরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে এবারই প্রথম ব্যাকটেরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে।
গবেষণায় জানা গেছে, অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের মাধ্যমে শ্বসনপ্রক্রিয়া পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখেছেন, কিছু ব্যাকটেরিয়া ন্যাফথোকুইন্স নামক বস্তুর সাহায্যে ইলেকট্রন নির্গত করে। এ প্রক্রিয়াটিকে তারা এক্সট্রাসেলুলার র্যাসপিরেশন বলে অভিহিত করেছেন। ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো কোনো ধরনের অক্সিজেন ছাড়াই বাঁচতে পারে।
এ জন্য গবেষকরা নির্বাচিত ব্যাকটেরিয়াকে এমন স্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করেছেন যেখানে কোনো অক্সিজেন নেই। বরং সেখানে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াগুলো নিজেদের শরীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমেই শ্বসনের কাজ চালাতে পারে।
পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াগুলো দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনও করতে পারে।
গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক ও রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষক বিকি বাপি কুণ্ডু জানান, নতুন এ শ্বসনপ্রক্রিয়া যথেষ্ট সরল। ন্যাফথোকুইন্স এক ধরনের আণবিক কুরিয়ারের মতো। এ অংশটি ব্যাকটেরিয়া কোষে ইলেকট্রন বহন করে এবং কোষে শক্তি উৎপাদন করে। এ ধরনের গবেষণার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ গবেষণার মাধ্যমে গবেষকরা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও সহজ পদ্ধতি খুঁজে নিতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বায়ো ম্যানুফ্যাকচারিং ও বায়োটেকনোলজিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব বলে গবেষকরা দাবি করেছেন।
গবেষণার প্রধান আজও ফ্র্যাংকলিন আরও জানান, ‘আমাদের এ গবেষণা দীর্ঘদিনের এক রহস্যের উন্মোচন করেছে। এ গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃতিতে টিকে থাকার নতুন প্রক্রিয়া জানা গেছে। মূলত জীববিজ্ঞানকে ব্যবহার করে আরও অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথ উন্মোচিত হয়েছে।
Leave a Reply