দিশারী ডেস্ক। ২০ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
বিভিন্ন সমস্যার কারণে শরীরে প্রদাহ হয়ে থাকে। যদিও শরীরে প্রদাহ ভালো, কারণ এটি শরীরকে বাহ্যিক ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, শরীরে যদি কোনো সংক্রমণ বা আঘাত হয়, তবে শরীরে অ্যান্টিবডি ও প্রোটিন তৈরি হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এটিকে নিরাময় করে। কিন্তু যদি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দেখা দেয়, তবে এটি শরীরের টিস্যু ও অঙ্গগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে ক্যান্সার থেকে শুরু করে স্ট্রোক পর্যন্ত সবকিছুর ভয় থাকে।
শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হলে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যার ফলে সহজেই শনাক্ত করা যায় যে শরীরে প্রদাহ আছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের লক্ষণ হলো—
ক্লান্তি
শরীরের ব্যথা
বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ
ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
ওজন বৃদ্ধি বা ওজন হ্রাস
ঘন ঘন সংক্রমণ
শরীরে এই লক্ষণগুলো কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া এগুলো অনেক মাস বা বছরের মধ্যে দেখা যায়।
শরীরে প্রদাহ বাড়ায় যেসব খাবার
রুটি : অনেকে স্বাস্থ্যকর ভেবে পুরো গমের রুটি খান। কিন্তু এটি অনেকের মধ্যে প্রদাহ বাড়ায়। গবেষণা অনুসারে, গ্লুটেন ও বিশেষ ধরনের প্রোটিন শরীরে নিম্ন গ্রেডের প্রদাহ সৃষ্টি করে। এক অর্থে, যারা গমের প্রতি সংবেদনশীল অথবা গমের অসহিষ্ণুতা সম্পর্কে জানেন না। তাদের পুরো গমের রুটি থেকে প্রদাহ হয়।
ভাজা খাবার : আপনি যদি প্রায়শই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি, পেঁয়াজ পাকোড়ার মতো ভাজা খাবার খান, তাহলে সাবধান থাকুন। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ২০২৩ এর রিপোর্ট অনুসারে, বাণিজ্যিকভাবে ভাজার জন্য ব্যবহৃত তেল, বিশেষ করে যখন এটি পুনরায় ব্যবহার করা হয়, তখন ‘অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন অ্যান্ড প্রোডাক্ট’ নামে একটি বিশেষ ধরনের যৌগ তৈরি হয়। যা সক্রিয়ভাবে শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। যার কারণে আর্থ্রাইটিস এবং মেটাবলিক সিনড্রোম দেখা দেয়। উচ্চ তাপে ভাজা খাবার ট্রান্স ফ্যাট তৈরি করে, যা হৃদরোগ ও প্রদাহ বাড়ায়।
দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য : দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়ার কারণে কিছু মানুষের মধ্যে প্রদাহ দেখা দেয়। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার সমস্যা আছে, তাদের মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ট্রিগার করে এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। তবে, এই প্রদাহ নিম্ন স্তরের। যার কারণে ফোলাভাব, ত্বকে ফোলাভাব ও জয়েন্টে শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধে উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত।
চিনি : পরিশোধিত চিনির সোডা পানীয়, টফি, ক্যান্ডি ও অনেক মিষ্টি প্যাকেজযুক্ত খাবার খেলে শরীরে প্রদাহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বেশি পরিমাণে চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। যদি চিনির পরিবর্তে কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি কিছু মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রদাহ বাড়ায়।
ডায়েট সোডা : ডায়েট সোডা বা চিনিমুক্ত ক্যান্ডি খাওয়ার পরে যদি আপনার মাথা ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, ত্বকের সমস্যা হয়, তাহলে এটি বিপাকীয় রোগের ইঙ্গিত দেয়। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট রুটি, ভাতের মতো পণ্যগুলোতে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলোতে ফাইবার ও পুষ্টি উপাদান খুব একটা থাকে না। এগুলো খেলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এবং শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়।
২০২৪ সালের জার্নাল অব নিউট্রিশন অনুসারে, বেশি পরিশোধিত শস্য খেলে গোটা শস্য খাওয়ার চেয়ে প্রদাহ বেশি বৃদ্ধি পায়।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
Leave a Reply