রামগতিতে জাটকা ধরার মহোৎসব, রয়েছে নৌ-পুলিশের বেপরোয়া বাণিজ্য

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৭ পাঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর।। ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।

ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনায় চলছে অভিযান। এ অভিযান ভেঙে উপজেলার বড়খেরী নৌ-পুলিশের সহায়তায় জাটকা ইলিশ ধরার মহোৎসব চলছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা নিয়ে মা-ইলিশ ধরার অনুমতি দিচ্ছে নৌ-পুলিশ। এমনটাই জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

———————————————————–

নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা

———————————————————–

মাছ শিকারে যাওয়া তিনজন জেলে জানান, নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে বড়খেরী ইউনিয়নের মোহাম্মদ ইসমাইলকে দিয়ে নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তারা জানান, টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে বড়খেরী ইউনিয়নের ইসমাইল। সে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুর রহমানের বিশ্বস্ত লোক। তাকে দিয়ে নৌ-পুলিশ বেপরোয়া বাণিজ্যে মেতে ওঠেছে। নৌ-পুলিশের এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তিনজন জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২১ দিনের জন্য প্রতিটি নৌকা ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে অবাধে মাছ শিকার করছেন। যারা ১৫ হাজার টাকা দিতে না পারবে, তারা দৈনিক ১ হাজার টাকা দিয়ে নদীতে নৌকা নামাচ্ছেন। বর্তমানে নৌ-পুলিশ ও ইসমাইলের তত্বাবধানে প্রায় ২৫ টি নৌকা প্রতিদিন ভোরে ও রাতে মেঘনা নদী থকে মা ইলিশসহ জাটকা নিধন করছেন।

৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা, বিক্রি ও মজুদের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রামগতির মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে জেলেরা জাটকা ইলিশ শিকার করছে। মাছ শিকারে সহায়তা করছেন বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুর রহমান।

রামগতি বড়খেরী নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মো. সফিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাই আপনি আমার সাথে দেখা করেন বলে ফোন কেটে দেন।

———————————————————————————————————-

সরেজমিনে সোমবার সকাল থেকে উপজেলার রামগতি বাজার মাছঘাটের পুর্ব পাশে ও মৎস্য অবতরণ কেন্ত্র এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বেশ কয়েকজন জেলে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। তাদের কাছে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গেলে তারা কোন ধরনের আপত্তি করেননি। নেই তাদের মধ্যে কোন ভয়-ভীতিও। বরং দুইজন জেলে হেসে বলে ওঠলেন, ভাই ছবি তুলে কি করবেন ? আমরা সব লাইন-ঘাট ঠিক করে আসছি। নৌ-পুলিশকে ১৫ হাজার টাকা আগে জমা দিতে হয়েছে। থানার দালাল ইসমাইলের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই সব নিয়ন্ত্রণ করে।

————————————————————————————————————-

প্রসঙ্গত, মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে চলতি মাসের ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞাকালীন মাছ শিকারে গেলে জেল, জরিমানা ও উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

সালাহ উদ্দীন ও দিদার মাঝি নামে জেলে বলেন, তারা নৌপুলিশের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নদীতে যাচ্ছেন। তবে টাকার অংকের কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী খুরশিদ মাঝি বলেন, অভিযান চলাকালীন সময়ের জন্য নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেন নৌ-পুলিশের পক্ষে ইসমাইল। তিনি ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।

আবুল কালাম মাঝি বলেন, এই ঘাটে ইসমাইলের তত্বাবধানে মোট ২৫ টি নৌকা নিয়মিত চলে। সবগুলো নৌকা চুক্তিতে চলছে। যারা টাকা দেয়নি তাদের নৌকা নদীতে নামলেই আটক করবে পুলিশ।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইসমাইল তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে গুজব আখ্যা দিয়ে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। নৌ-পুলিশ এই ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকলে সেই জবাব তাকেই দিতে হবে।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান বলেন, নৌপুলিশের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ লোক মুখে আমরাও শুনে আসছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি নৌকা আমরা আটক করেছি। বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমানের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!