গোপাই রামশংকরপুর পুকুর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালী পৌরএলাকার গোপাই রামশংকরপুরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় রঞ্জন কুরি (৫৮) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে সুধারাম থানা পুলিশ।

শনিবার ১৪, মার্চ সকাল ৯ টার দিকে পুকুরের পাশের এক ব্যক্তির ওই ব্যক্তির দেহের মাথা ও ঘাড়ের কিয়দাংশ ভাসমান দেখে প্রতিবেশি অন্যান্যদের দেখায়। এ সময় জড়ো হওয়া লোকজন এটি মানুষের লাশ বলে শনাক্ত করেন। পরে সুধারাম থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

মৃত রঞ্জন দুই কন্যা ও এক পুত্রের জনক। পুত্র জয় কুরি ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, তিনা রানী স্ট্যাম্পফোর্ড কলেজ ও ইশা রানী নোয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।

মৃত রঞ্জন কুরির স্ত্রী শিল্পী রানী জানান, গত দু’দিন ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। তার স্ত্রী অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পাওয়ায় শুক্রবার সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

গত ক’দিন ধরে ওই ব্যক্তিকে জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছেন বেশ ক’জন যুবক। জীবদ্দশায় ওই ব্যক্তি স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেছেন, ইতোপূর্বে তাকে দত্তের হাট মসজিদের রাস্তায় জনৈক ব্যাংকারের বাসার সামনে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় ওই ব্যক্তি ভয়ে ভীত হয়ে পুকুরে পড়ে যান। একপর্যায়ে, সেখান থেকে তুলে তাকে অন্যত্র আটকে রেখে মারধোর করে নগদ অর্থ, মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে যান তারা।
এরপর ওই ব্যক্তির বাড়িতে এসে ওই যুবকেরা তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যান।

——————————————————————————————————

জীবদ্দশায় রঞ্জন কুরি বিষয়টি দত্তবাড়ি মোড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি বেশ ক’জন যুবকের নাম উল্লেখ করেন। তারা তাকে নানাভাবে হেনস্থা করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

——————————————————————————————————

ইতোমধ্যে ওই সংঘবদ্ধচক্র আরো চাঁদা দাবি করলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছন। এর জের ধরে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের পুকুরে রাতের কোন এক সময়ে ফেলে গেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এৃত রঞ্জন কুরি স্ত্রী ভয়ে তটস্থ হয়ে বর্তমানে বাকরুদ্ধ। কখনো ঘটনার সম্পর্কে মুখ খুলছেন, আবার কখনো বলছেন, মৃত্যুর কারণ জানা নেই তার।

তবে সুধারাম থানার এসআই কাউসার বলছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বলা যাবে এটি হত্যা নাকি অন্য কিছু।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আপাতত এটি অপমৃত্যু হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করছি। তদন্তক্রমে পরবর্তী বিষয়াদী জানা যাবে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!