মাতৃভূমির মর্যাদায় ইসলাম

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ পাঠক

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ।। ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ 

বাংলা-বাঙালির ২৬৩ দিনের ‘ বাঁচার লড়াই ’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বিজয় ও স্বাধীনতা মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। মাতৃভূমির প্রতি বিশেষ অনুরাগ-আবেগের নাম ‘ স্বদেশপ্রেম ’। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারা, কাসাস, নুহ, ফাতহ, বালাদসহ বিভিন্ন সুরার অসংখ্য আয়াতে ঈমানের অংশ স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা আছে। স্বদেশপ্রেমের তাৎপর্যে সুরা আনআমের ৯২ নম্বর আয়াতে পবিত্র মক্কা নগরীকে ‘ উম্মুল কুরা ’ বলা হলো।

‘উম্মুল’ অর্থ জননী/মা, ‘কুরা’ অর্থ জনপদ (‘উম্মুল কুরা’ বা ‘জনপদের মা’)। বলা চলে, একজন মানুষ যেমন মা ছাড়া জন্মাতে পারে না তেমনি মাতৃভূমি বা স্বদেশ পরিচয়হীন মানুষের অস্তিত্ব অনর্থক।

ইবরাহিম, ইসমাইল (আ.)-এর পদধূলি ধন্য মক্কা পবিত্র স্থান। মক্কার ৫০টি নামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মক্কা, বাক্কাহ, উম্মুল কুরা, মাআদ, আল বালাদ, আল বালাদুল আমিন, আল কারইয়াহ, আল ওয়াদি, আল মাসজিদুল হারাম, আল বাইতুল আতিক, তিহামাহ এবং আল বালদাহ।

‘উম্মুল কুরা’ নামকরণের তাৎপর্য:

বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্রতম ভূমি মক্কা। মক্কা সব জনপদের মানুষের কিবলা। মক্কা নগরী প্রথম ও প্রাচীন জনপদ। ঐতিহাসিকরা বলেন, সারা দুনিয়া সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পবিত্র কাবা, কাবাসংলগ্ন অঞ্চলসমূহ সৃষ্টি করেন। তারপর চারদিকে ভূমি সম্প্রসারিত করেন। মক্কায় যেহেতু রাসুল মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন, এ জন্যই মক্কাকে উম্মুল কুরা বলে সম্বোধন করা হয়েছে।আল্লাহ মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম মক্কা থেকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে। তাই মক্কা উম্মুল কুরা। ইসলামের ইতিহাসে দেড় হাজার বছরে রয়েছে ভাঙা-গড়ার অধ্যায়।

৭১১, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে স্পেনে মুসলিম শাসনের সূচনা করেছিলেন সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ। ১২৩৮ সালে মুহাম্মদ ইবনু নাসর গ্রানাডা জয়ের স্মারক হিসেবে তৈরি হয় আল হামরা।
মুহাম্মদ ইবনু নাসর বিজয়ী বেশে গ্রানাডায় প্রবেশকালে জনতার উল্লাসধ্বনি ছিল মারহাবান লি-ল-নাসর অর্থাৎ ‘ আল্লাহর কৃপায় বিজয়ীকে সুস্বাগত ’। তিনি বলেছিলেন লা গালিবা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ ‘ অন্য কেউ বিজয়ী না, যদি না আল্লাহ চান ’।

ইতিহাসের বহতাধারায় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ বিতাড়ন-পরবর্তী ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭১-এর ঐতিহসিক পথপরিক্রমায় লাখো শহীদের রক্তসাগর পারে উড্ডীন হয় লাল-সবুজের পতাকা। অসম সাহসী বীর শহীদদের স্মৃতি-শ্রদ্ধায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তরে স্থান পেয়েছে ১৫০ ফুট উঁচু স্মৃতিসৌধ চত্বর । আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের ১০টি গণসমাধি। বাঙালির বিজয় আকাঙ্ক্ষায় সুরা ফাতহ (বিজয়) প্রাসঙ্গিক।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘ (হে রাসুল), নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ০১)। তিনি আরো বলেন, ‘ যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং দলে দলে লোকদের ইসলামে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসার সঙ্গে তাসবিহ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করুন।’ (সুরা : নাসর, আয়াত : ০১-০৩)

মানুষের অপতৎপরতায় স্বাধীনতা হারানো অথবা দেশ বিক্রি বিরল নয়। ১৮৬৭ সালে ৭.২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে যায় আলাস্কা। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হায়দরাবাদের বিলুপ্তি ঘটে দেশটির বাহিনী প্রধান এল এদরুসের বিশ্বাসভঙ্গে! নানা বিভক্তি-বিশৃঙ্খলা, প্রহসনমূলক নির্বাচনে গঠিত সংসদের মাধ্যমে আইন করে ভারতের হাতে সিকিমের স্বাধীনতা তুলে দেন লেন্দু দর্জি!

স্বাধীনতা সুরক্ষায় থাকতে হবে সতর্ক। বর্তমান বিশ্বে তিব্বত, হংকং, আরাকান নামে স্বাধীন দেশ নেই। তামিল, কাশ্মীর আন্দোলন, পাঞ্জাবের ‘ খালিস্তান ’ সংগ্রামে কম রক্ত ঝরেনি। দীর্ঘতর হয়েছিল আলজেরিয়া, কিউবার মুক্তিসংগ্রাম। দক্ষিণ সুদান, পূর্বতিমুরের স্বাধীনতা এসেছে অনেক অপেক্ষা ও ত্যাগে। রক্ত ঝরিয়েও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি রাশিয়ার ‘ চেচেন ’ এবং ফিলিপিন্সের ‘ মরো’ জাতীয়তাবাদীরা। ষাটের দশক থেকে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত-হতাশ ফিলিস্তিনি ভাইয়েরা। ভয়াল তাণ্ডবে পাখির মতো উড়ে যাচ্ছে গাজাবাসী। মসজিদে আকসা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

পরিশেষে বিজয়ক্ষণে ১১ সেক্টর কমান্ডার, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ বীর-উত্তম, ১৭৫ বীরবিক্রম, ৪২৫ বীরপ্রতীক সবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর।।

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!