বাংলাদেশের গণতন্ত্র উন্নয়নে বেগম জিয়ার অবদান অনন্য

  • আপডেট সময় বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৪ পাঠক

ড. মো. সফিকুল ইসলাম।। ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

মহীয়সী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রায়ণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিগন্তে যেন এক গভীর শূন্যতা বিরাজ করছে। তিনি তিন মেয়াদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তার বিদায় শুধু একজন রাজনীতিকের মৃত্যু নয় এটি একটি যুগের সমাপ্তি, একটি আদর্শিক সংগ্রামের এবং কোটি কোটি মানুষের আশা-ভরসার প্রদীপ নিভে যাওয়ার মত। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অত্যন্ত প্রহরী ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গ্রুপ তথা জনগণের ঐক্যের প্রতীক। বিশেষ করে, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়নে যতগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার অধিকাংশ তার নেতৃত্বে হয়েছে। রাজনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান অন্য কারও সঙ্গে তুলনা হয় না। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে তার অবদান অনন্য।

বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ১৯৮২ সালের ২রা জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের দক্ষতা প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাসে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন। তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, শক্তি এবং দক্ষতার সঙ্গে তিনি দলের নেতৃত্বে আসেন যা একটি অধ্যায়ের সূচনা করে। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।

১৯৮৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাতদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময়ে খালেদা জিয়াই প্রথমে বিএনপিকে সাতদলীয় ভোটের মাধ্যমে সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তাঁর নেতৃত্বে ৭ দল ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল যৌথভাবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি প্রদান করে। ১৯৮৬ সালে এরশাদ তার সামরিক শাসনকে বৈধতা দানের জন্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে।

এরশাদের এ পাতানো নির্বাচনকে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখান করে। বিশেষ করে, খালেদা জিয়া এ পাতানো নির্বাচন বর্জনে অবিচল থাকেন। তারপর ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল স্বৈরাচার এরশাদ এর পতনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করেন। অবরোধ, লংমার্চ এবং গণ-সমাবেশের মতো সব কর্মসূচিতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। এই আন্দোলনগুলোকে শুধু দলীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

এগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ সময় তিনি ছাত্র সমাজকে একত্রিত করা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষদেরকে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এসব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি গণতান্ত্র পনঃপ্রতিষ্ঠার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন হয় এবং গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয়। এ সময়ের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি আপোষহীন নেত্রী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান হিসেবে শুধু ইতিহাসই সৃষ্টি করেননি, রাষ্ট্রনায়ক সুলভ প্রজ্ঞার পরিচয় দেন।

এ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া তার মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য আচরণের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করেন এবং বিএনপিকে বিজয়ী করেন। তার এ শাসন আমলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও নীতিগত সংস্কার কাজ সাধন করেন। তার উল্লেখযোগ্য হলো সংবিধানের ১২তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা থেকে আইনসভার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। যা ছিলো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। ক্ষমতার মোহ নয়, গণতন্ত্র ছিলো রাজনীতি কেন্দ্রবিন্দু।

এছাড়া, তার এ শাসনামলে শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যাহোক, ১৯৯৪ সালে ২০শে মার্চ অনুষ্ঠিত মাগুরা উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছিল।

কিন্তু, তখনকার প্রেক্ষাপটে তাদের রূপরেখা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বিএনপি সরকার অপারগতা প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৪৭ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করে। ফলে বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যগণ পদত্যাগ করায় বিএনপি চাইলেও সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব ছিলো না।

সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কারণেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১৯৯৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটি প্রয়োজন ছিলো। ফলে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সম্বলিত ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল পাস হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পাশ করেই খালেদা জিয়া সরকার পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। নির্বাচিত হয়ে ও কর্তৃত্ববাদী কায়দায় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেননি। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করেছিলেন।

বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশেই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায়ই সংঘাত সহিংসতায় রূপ নেয়। খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংবিধানিক রূপ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করেছিলেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি।

২০০১ সনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতায় আসার পর পরই আওয়ামী লীগ এ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিশেষ করে, ২০০৪ সালের ১৬ মে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ বছরে বর্ধিত করাকে কেন্দ্র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। কেননা, তারা বুঝতে পেরেছিলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে চারদলীয় জোটের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করা কঠিন।

——————————————————————————————————

আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কারণে তখনকার সময়ে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানায়। চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ রকম অনিশ্চয়তা জেনেও খালেদা জিয়া ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেনি। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান। তার ক্ষমতা মোহ থাকলে তিনি আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি চেয়েছিলেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আরোহণের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকুক।

——————————————————————————————————

দেশি ও বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র ও সহযোগীতায় ২০০৮ সালের একটি নীল নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন চৌদ্দদলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করে। এ পরিকল্পনার একটি বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে তাদের ভিশন-২০২১।

বিশেষ করে, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আদালতের বিতর্কিত রায়ের উপর ভিত্তি করে ২০১১ সনের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন, লুটপাট এবং প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণের কারণে এ সংকট আরও গভীর হয়েছিল। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুন:প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধী দলসমূহ বর্জন করে। এ নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল, যা বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আর যেসব আসনে নির্বাচন হয়েছিল সেসব আসনে ভোটার উপস্থিতির হ্রা নজিরবিহীনভাবে কম ছিল।

এছাড়া ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী ও বিএনপিকে নিঃশেষ করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে একর পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছিলো। গুম, খুন ও ভয়াবহ নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিলো। বিশেষ করে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা ও বিএনপি নিঃশেষ করার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪টি মামলা দেয়া হয়েছিল। আদালতকে প্রভাবিত করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ কয়েকটি মামলার রায় দ্রুততম সময়ে প্রদান করে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। এটি ছিলো সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। এ ট্রাস্ট ফান্ডের কোন অর্থই তিনি কখনো স্পর্শ করেননি। বরং এ ট্রাস্টের টাকা ব্যাংকে জমা ছিলো এবং বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল। এতৎসত্ত্বেও খালেদা জিয়া গণতন্ত্র এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে আপস করেননি। জুলাই গণঅভ্যুল্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন। ছাত্র সমাজসহ গণমানুষকে উৎসাহ জুগিয়েছিলেন কীভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন ও মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। তিনি তার বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংহতকরণেও অবদান রয়েছে। কোন বক্তৃতা, বিবৃতি ও আলোচনায় অশোভন শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। অন্য রাজনৈতিক দল বা নেতাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে কখনই কোন বক্তব্য দেননি। যেটা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রায়ই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও নেতাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতেন। খালেদা জিয়া ইস্যু বা নীতিভিত্তিক কথা বলতেন। একটি আদর্শ ধারণ করতেন। মিথ্যা, চল চাতুরী ও প্রতারণা করে জনগণকে কখনোই ধোঁকা দেননি। যেটা আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রায়ই দেখেছি।

তিনি প্রতারণা ও মিথ্যা দিয়ে অন্য কোনো দলকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেননি। তিনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, মিস্টভাষী ও সদাচরণ সম্পন্ন উত্তম গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে ও বাংলাদেশের জনগণকে ভালোবাসতেন, জনগণও তাকে পছন্দ করতেন।

তার রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় নির্বাচনে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেও কখনো পরাজিত হননি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বার বার মুক্ত হয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা পেয়েছে।

জাতির কল্যাণে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সবসময় জনগণকে পথ দেখিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বিএনপিকে অনুসরণ করতে হবে। তাদের আদর্শ ধারণ করতে হবে। তাদের সততা, নিষ্ঠা, গণমুখী নেতৃত্ব, সদাচরণ এবং জনকল্যাণকর নীতি দলের আদর্শ ও কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলে বর্তমান বিএনপি কখনই পথ হারাবে না।

লেখক : অধ্যাপক (ডেপুটেশন), রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও উপ-উপাচার্য, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!