দিশারী ডেস্ক।। ২০ অক্টোবর, ২০২৬।।
নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফের স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ফ্যাসিবাদী কায়দায় এখানকার পুরো নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে একটি বিশেষ বাহিনীর হাতে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বাহিনীর স্বার্থ সুবিধার জন্য সুখকর বহাল তবিয়তে রয়েছেন চলতি দায়িত্বের নামে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস ।

জেলার সচেতন নাগরিকেরা জানান, পলাশ আওয়ামী যুগে এ দপ্তরের মাধ্যমে জেলায় উন্নয়নের নামে বরাদ্ধ হওয়া কোটি-কোটি টাকা চুষে খেয়েছেন। একপর্যায়ে, কিছু সময় অর্থ্যাৎ শেখ হাসিনার সরকারের পদচ্যুতির পর অন্য জেলায় কর্মরত ছিলেন। এরপর বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ সুবিধা মনোরঞ্জনের লক্ষ্যে, তাকে অনেকটাই ভাড়া করে ফের নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে আনা হয়েছে। এরপর তাকে ঘিরেই গড়ে ওঠছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জনৈক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, মূলত, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস দুর্নীতিও করছে অতিরিক্ত।
——————————————————————————
অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি-০১
——————————————————————————
অভিযোগ ওঠেছে, তিনি যোগদানের পর এখন আর কোন কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় না। সবই কুটকৌশলে ঢাকায় পাঠিয়ে সংযুক্ত প্রকল্প কর্মকর্তার নামে সম্পাদন করা হয়। এক্ষেত্রে তিনি প্রকল্প কর্মকর্তা পদবীতে সম্পৃক্ত না থাকলেও মূলত, নকসা হতে শুরু করে প্রাক্কলন ব্যয়সহ সব কিছুই হয়ে থাকে তার লিখনীতে ও নখদর্পে। এতে বেশিরভাগ সাধারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন আর কোন কাজে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া, তিনি নোয়াখালী থেকে বিশেষ বাহিনীর সাথে চুক্তিবদ্ধতায় ঢাকায় কখন কোন কাজের প্রকল্প প্রেরণ করেন, তাও কোন সাধারণ ঠিকাদারের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।
সূত্র জানায়, পলাশ বিগত আওয়ামী যুগে নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়ে জেলায় কোটি-কোটি টাকার গভীর নলকূপ স্থাপন করার কথিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। তবে সে সময়েও বাস্তবতায় অনেকগুলোর কোন কার্যকারিতা ছিল না।
অপরদিকে আর্সেনিকমুক্ত, নিরাপদ ও সুপেয় পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে কতটি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, তাতে রয়েছে সীমাহীন অনিয়ম। প্রায় নলকূপ সীমিত গভীরে স্থাপন করার ফলে কোথাও লোনা পানি দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও কোন কোনটিতে পানির দেখা নেই।
এদিকে, নোয়াখালীর ভাসানচরে তার কতৃত্বে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নয়নের নামে কোটি-কোটি টাকার কথিত প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই নাকি শেষ হওয়ার পথে। তবে এসব বিষয়ে তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করার পরেও না পাওয়ায় তার মতামত তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply