পার্কিং সংকটে সড়ক দখল, বিপর্যস্ত নোয়াখালী

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তাই সড়কের পাশেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরেই দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে গাড়ি। কোথাও দখল হচ্ছে ফুটপাত। কোথাও পার্ক করা যানবাহনে সংকুচিত হয়ে আসছে সড়ক। এতে যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে নোয়াখালী শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলো। ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও পথচারীরা। বাড়ছে সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকিও।

———————————————————————————————————————-

অনুমোদিত পার্কিংয়ের জায়গা অনেক মালিক পরে ভাড়া দিয়ে দেন

———————————————————————————————————————-

পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝেমধ্যে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে পার্কিংয়ের জায়গা উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হলেও ফের আবার দখল হয়ে যায় । অন্যদিকে, আধুনিক পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলার জন্য সম্ভাব্য স্থান নিয়েও কোন ধরনের উদ্যোগ নেই পৌরকর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বাণিজ্যিক এলাকা ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে পার্কিং সংকট সবচেয়ে বেশি। মাইজদী বাজার হতে শুরু করে সোনাপুর জিরো পয়েন্ট মোড় এলাকায় এ সমস্যা প্রকট। এসব এলাকায় মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস নিয়মিত সড়কের পাশে কিংবা ফুটপাতের ওপর রাখা হচ্ছে। কোথাও দখল হয়ে থাকছে সড়কের একাংশও। ফলে কমে যাচ্ছে যান চলাচলের জায়গা। পথচারীদেরও চলতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।

রাজিব নামে এক মোটরসাইকেলচালক বললেন, বাজারে কেনাকাটা করতে এসে নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া কঠিন। তাই অনেক সময় সড়কে বা রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রাখতে হয়। পথচারী আবদুল হকের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বললেন, সড়কের পাশে যানবাহন পার্ক করে রাখায় হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজার ও অন্যান্য জনসমাগম এলাকায় পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা থাকা প্রয়োজন।

—————————————————————————————————————————–

পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। বললেন, কিছু ভবনের অনুমোদিত নকশায় পার্কিংয়ের জায়গা রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরে মালিকরা সেই জায়গা ভাড়া দিয়েছেন কিংবা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছেন। এ পরিস্থিতিতে পার্কিংয়ের জায়গা পুনরুদ্ধারে ভবন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে তারা। পার্কিং সুবিধা ছাড়া নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনও বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

—————————————————————————————————————————–

শহরের টাউন হল মোড়ের ছয়তলা টাওয়ারের একটি উদাহরণ। ভবনটিতে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা গাড়ি রাখার কাজে ব্যবহার না করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। ফলে ভবনটিতে আসা লোকজনকে বাইরে সড়কের পাশে গাড়ি রাখতে হচ্ছে।

তবে নোয়াখালী জজকোর্ট, পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা প্রশাসন, প্রেসক্লাব ভবন, থানা, পৌরসভা এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া আর কোথাও চোখে পড়েনি।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে ব্যাটারিচালিত রিকসাসহ হাজার হাজার বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও যান্ত্রিক পরিবহন রয়েছে। রয়েছে অনিবন্ধিত গাড়ির বাইরেও কয়েক হাজার অবৈধ মোটরসাইকেল। বিপুলসংখ্যক এই যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রায়জনের ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের পার্কিংজনিত সমস্যা।

পার্কিং সংকটের কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার বললেন, পার্কিংয়ের জায়গার অভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ছে। কাউকে সড়কে গাড়ি রাখতে নিষেধ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, গাড়ি কোথায় রাখব ?

এভাবে সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে দুর্ঘটনায় হাজারো মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছে জানিয়ে স্বেচ্ছায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা জনৈক সাংবাদিক, সমাজ ও মানবাধিকারকর্মী বললেন, সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক পুলিশিংয়ের চেয়ে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!