উপুড় হয়ে শোয়া প্রসঙ্গে হাদিসে যা বলা হয়েছে

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫
  • ১১৩ পাঠক

মাইমুনা আক্তার । ১৭ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

ঘুমানোর একটি আরামদায়ক ভঙ্গি হলো উপুড় হয়ে শোয়া। এই পদ্ধতিতে ঘুমানো সাময়িক আনন্দ দিলেও এটি অভ্যাসে পরিণত করা কিন্তু মোটেই ভালো নয়। কখনো কখনো এটি বিপদের কারণ হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এভাবে শোয়া সাময়িক আরামদায়ক মনে হলেও এ অভ্যাসের কারণে মেরুদণ্ড, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের বিশ্রাম ও ঘুমের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক বদলে গিয়ে ঘাড়-পিঠে ব্যথা হতে পারে। অনেকের মতে, এভাবে শুয়ে থাকলে পিঠের নিচের অংশেও অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। পিঠের নিম্নাংশে সমস্যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগজনিত নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। উপুড় হয়ে শোয়ার এমন অনেক অপকারিতা জাতীয় পত্রিকাগুলোর লাইফস্টাইল পাতাগুলোতে পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাসুল (সা.) এভাবে শুতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হিসেবে হাদিস শরিফে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক. মহান আল্লাহ এভাবে শোয়া পছন্দ করেন না। দুই. এটি জাহান্নামিদের শোয়া। জাহান্নামিদের উপুড় করেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

ইবনে তিখফা আল-গিফারী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা তাঁকে অবহিত করেন যে তিনি ছিলেন আসহাবে সুফফার সদস্য। তিনি বলেন, একদা শেষরাতে আমি মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। আমি উপুড় হয়ে ঘুমে বিভোর অবস্থায়, তখন একজন আগন্তুক আমার কাছে এলেন। তিনি আমাকে তাঁর পায়ের সাহায্যে নাড়া দিয়ে বলেন, ‘ ওঠো ! এভাবে উপুড় হয়ে শুলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। ’ আমি মাথা তুলে দেখি রাসুল (সা.) আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে। (আদবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১৯৯)

————————————————————————————————————-

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ আমি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় নবী (সা.) আমার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে তাঁর পা দ্বারা খোঁচা মেরে বলেন, হে জুনাইদিব ! এটা তো জাহান্নামের শয়ন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৭২৪)

————————————————————————————————————-

রাসুল ( সা.)-এর বাণী ‘ এটা তো জাহান্নামের শয়ন ’-এর পক্ষে পবিত্র কোরআনের আয়াতও পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে জাহান্নামিদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘ যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে ; সেদিন বলা হবে, জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন কর।’ (সুরা : কমার, আয়াত : ৪৮)

অতএব, আমাদের উচিত, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) যেভাবে শোয়া পছন্দ করেন না, সেভাবে শোয়া থেকে বিরত থাকা। তবে মনে রাখতে হবে, ইসলাম এই পদ্ধতিরে শোয়াকে হারাম করেনি। তবু যদি আমরা নবীজি (সা.)-কে অনুসরণ করে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ এতে আমাদের দুনিয়া, আখিরাত উভয় জাহানেরই কল্যাণ হবে। যদি কারো কোনো অসুস্থতার কারণে কিংবা অন্য কোনো সমস্যায় উপুড় হড়ে শোয়ার একান্ত প্রয়োজন হয়, তা ভিন্ন কথা।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!