বাকিতে বা কিস্তিতে পণ্য বিক্রয় কতটুকু জায়েজ ?

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৭২ পাঠক

কাসেম শরীফ । ৩ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

নগদ বিক্রির তুলনায় বাকি বিক্রিতে মূল্য কিছু বেশি রাখা বৈধ। তবে সাধারণত বাকির ক্ষেত্রে যে হারে অতিরিক্ত মূল্য নেয়া হয় তার চেয়ে বেশি নেয়া উচিত নয়।

আর বাকি বিক্রির ক্ষেত্রে বেশি মূল্য নেয়া সুদ নয়। অবশ্য মূল্য চূড়ান্ত করে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে বা বিলম্বে মূল্য পরিশোধের কারণে যদি অতিরিক্ত গ্রহণ করা হয় তবে তা সুদ ও হারাম হিসেবে গণ্য হবে।
(হেদায়া : ৩/৭৪, বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা : ১/১০)

———————————————————————————————————————————-

বাকিতে বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণত মূল্য পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি মেনে নেয়া হয়। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। অবশ্য বাকিতে বিক্রির উপাদান একটি মুনাফার সীমা নির্ধারণ করে এবং বিলম্বের বিষয়টি মেনে নেয়া এ নিশ্চয়তা দেয় যে, এই মুনাফা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগৃহীত হয়। এভাবে ‘রেট অব রিটার্ন’কে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্যারান্টি দেয়া হয়।

———————————————————————————————————————————–

ওআইসির ইসলামী ফিকাহ একাডেমি বাকিতে বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্যের এই পার্থক্য অনুমোদন করেছে। এটি পণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে সময়ের মূল্যকে গ্রহণ করার শামিল।

বাকি বিক্রিতে মূল্য বেশি আর নগদ বিক্রিতে মূল্য কম—এমন ক্রয়-বিক্রয়কে বায় তাকসিত বলা হয়। আর ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক নিয়ম হলো, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট থাকা।

এ ব্যাপারে আল্লাহর বাণী : ‘ তবে যদি তোমরা ব্যবসার ক্ষেত্রে পরস্পরে সন্তুষ্ট থাকো…।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ২৯)। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, বাকিতে যদি বেশি নেয়া হয় এবং তাতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে এমন ক্রয়-বিক্রয় বৈধ বলে বিবেচিত হবে।

———————————————————————————————————————————-

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, পণ্যের ক্ষেত্রে এটা বলা বৈধ যে, নগদ মূল্য এত এবং বাকিতে নিলে মূল্য এত। শর্ত হলো, তারা উভয়ে সন্তুষ্ট হয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিস ত্যাগ করতে হবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২০৪৫৩)

———————————————————————————————————————————-

ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেন, ‘ বাইআতাইনে ফি বাইআতিন ’-এর ব্যাখ্যায় একদল বিশেষজ্ঞ আলেম বলেছেন, ক্রেতাকে বিক্রেতা বলল, এই কাপড় ১০ টাকায় যদি নগদ মূল্যে ক্রয় করা হয়, তবে বাকিতে ক্রয় করলে ২০ টাকা।

এ দুটি বিক্রয় প্রস্তাবের মধ্যে কোনো একটিকে কোনো পক্ষই নাকচ করল না। কিন্তু কোনো একটি প্রস্তাব যদি গ্রহণ করে নেয় এবং সে অনুযায়ী চুক্তি হয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। (তিরমিজি, হাদিস : ১২৩১)।

হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি, হাম্বলি মাজহাবসহ সর্বসম্মত ফতোয়া হলো, সময় নির্ধারণ করে বিক্রি অথবা মূল্য বৃদ্ধি করে বাকিতে বিক্রি করা বৈধ, যখন এই শর্তে লেনদেন করা হয়। (আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু : ৪/২৪২)।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!