আসসালামু আলাইকুম,
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবারসহ কোটি কোটি নেতাকর্মী ও সমর্থককে শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অগ্রদূত। নিপীড়ন ও ষড়যন্ত্রের মুখে তিনি কখনো মাথা নত করেননি, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রশ্নে কোনো আপোস করেননি। তাঁর সংগ্রাম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
বেগম খালেদা জিয়া নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ অমর। দেশনেত্রীর শূন্যতা নেতৃত্বহীন নয়-জনাব তারেক রহমান এর নেতৃত্বে শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম বিজয়ের পথেই অগ্রসর হবে, ইনশাআল্লাহ।
স্বৈরাচারের অচলায়তন ভেঙে, পশ্চাৎপদতার চর্চা থেকে বেরিয়ে, মুক্ত ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই! এই পথে জীবন উৎসর্গকারীদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, ব্যথিত হৃদয়ে সমবেদনা জানাই অন্যায়ভাবে কারাবরণকারী, মামলা-হামলার শিকার, ঘর ও স্বজন হারানো মানুষদের।
বিশেষ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য সুবর্ণচরে লাঞ্ছনার শিকার পারুল বেগমের প্রতি, তার সাহসী পদক্ষেপের প্রতি।
———————————————————————————————————-
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মনোনয়নে ধানের শীষে ভোট দিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনে আপনারা আমাকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন, আমার প্রতি আপনাদের আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত আমাদের এই অঞ্চল ছিল অবহেলিত একটি জনপদ। এই অঞ্চলকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে আসতে সর্বতোভাবে ভূমিকা রেখেছেন আমাদের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ; আমরা তাঁর প্রতি চির কৃতজ্ঞতা।
———————————————————————————————————-
১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলকে উন্নত জনপদে পরিণত করতে আমি প্রাণান্ত পরিশ্রম করেছি।
এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলা শহরের সার্বিক সৌন্দর্য্যবৃদ্ধিতে আমার পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নে আপনারা অব্যাহত সমর্থন যুগিয়েছেন।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমার চিকিৎসাকালে আপনারা আমার সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করেছেন; আপনাদের নিঃস্বার্থ প্রার্থনায় আজ আমি সুস্থ। আপনাদের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আপনাদের সঙ্গে থেকেই এগিয়ে যেতে চাই উন্নত নোয়াখালীর স্বপ্নযাত্রায়। সে স্বপ্নযাত্রায়, নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবি ” নোয়াখালী বিভাগ ” বাস্তবায়ন আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে আমার পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরছি-
———————————————————————————————————-
নোয়াখালী সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন।
নোয়াখালী সদর-সুবর্ণচরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান।
সুপেয় পানির সংকটের আশু সমাধান এবং সুবর্ণচরে সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন। সুবর্ণচর পৌরসভা বাস্তবায়ন।
জলদস্যুতা প্রতিরোধে সুবর্ণচরে কোস্টগার্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন। সদর পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন।
সোনাপুরের পুরাতন অফিসার্স আবাসিক এলাকায় দিঘীর পাড়ে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন।
শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামকে আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপান্তর এবং সদর ও সুবর্ণচরে একটি করে নতুন স্টেডিয়াম স্থাপন।
নোয়াখালী বিমানবন্দর স্থাপন।
সোনাপুর-সুবর্ণচর-চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ। সুবর্ণ এক্সপ্রেস চালু এবং সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-সোনাপুর-মাইজদী-চৌমুহনী বাইপাস সড়ক নির্মাণ।
মাইজদী-উদয় সাধুর হাট (ইসলামগঞ্জ সড়ক)-কমলনগর সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণ।
সুবর্ণচরের থানারহাট-আক্তার মিয়ার হাট সড়ক এলজিইডি’র আওতামুক্ত করে সড়ক বিভাগের অধীনে এনে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।
দত্তেরহাট-উদয়সাধুর হাট সড়ক প্রশস্তকরণ।
সুবর্ণচরকে ট্যুরিস্ট জোন ঘোষণা করে হোটেল ও মোটেল তৈরির মাধ্যমে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং হাতিয়া, নিঝুমদ্বীপ, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাষানচরে যাতায়াতের জন্য পর্যটন জাহাজ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ।
হানিফ রোড-করমুল্লা বাজার-চরকাদিরা-ফজু মিয়া বাজার সংযোগ সড়কটিকে এলজিইডি’র আওতামুক্ত করে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণ।
নোয়াখালী-০৪ (সদর-সুবর্ণচর)-এর সার্বিক সড়ক ব্যবস্থা মেরামত/আধুনিকায়নে কার্যকরী ও সুদূরপ্রসারী প্রকল্প গ্রহণ।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ক্যাডেট কলেজ এবং সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট স্থাপনে পদক্ষেপ গ্রহণ। সুবর্ণচরে একটি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন।
চরজব্বর কলেজ এবং সদর উপজেলায় ২টি বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণ। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারে আধুনিক নতুন একাডেমিক ভবন, নতুন ছাত্রাবাস ও শিক্ষক ডরমেটরি নির্মাণ। প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং পরিবহন সুবিধার উন্নয়ন।
শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর সংস্কার ও আধুনিকীকরণ।
তরুণদের সময়োপযোগী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হাইটেক পার্ক এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে বিশেষায়িত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন।
নোয়াখালী পিটিআই-এর আধুনিকায়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সদর উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোর আধুনিকীকরণ।
নোয়াখালী প্রেসক্লাব ও টাউন হলের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ ও নোয়াখালী হেলথ ক্লাব স্থাপন।
দরিদ্র রোগীদের কল্যাণে কিডনী ফাউন্ডেশন এবং হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।
প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে সরকারি খাস জমি বন্টন এবং সুবর্ণচরে নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
সুবর্ণচরে শিল্প কারখানা বিকাশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও ধান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।
নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচরে কৃষকদের কল্যাণার্থে কৃষি বীজতলার জন্য খাস জমি সংরক্ষণ এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকল্পে কৃষি বিপনন কেন্দ্র ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন।
————————————————————————————————–
সময়ের সাথে সাথে মানবিক ও সামাজিক চাহিদা এবং ভাবনার পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তনের মাঝেই সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সন্ত্রাস, মাদক ও নৈরাজ্য দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ এবং সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার জন্য কাজ করতে চাই একসাথে, এক সময়ে-যা হবে দল-মত-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে।
——————————————————————————————————
ধানের শীষ উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রতীক, সৌভাগ্যের প্রতীক। বিগত সময়ের মতো এবারও আপনাদের সমর্থনে আমরা এগিয়ে যাবো। নতুন দিনের শক্তি জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এদেশের জনগণ ধানের শীষের বিজয় নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।
আসুন, নোয়াখালীর সকল উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে একসাথে উদ্যোগী হই, সবাই সম্মিলিত ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখি।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
———————————————————————————————-
মো. শাহজাহান
বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর)
প্রচারে : নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) এর জনগণ।
Leave a Reply