দিশারী রিপোর্ট
————–
লোকবল নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিভিন্ন পদে শতাধিক জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান।
একইসাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের কতেক জনের চাকুরি স্থায়ী করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে কোনো নিয়ম-নীতিরই তোয়াক্কা করেননি ভিসি অহিদুজ্জামান।
২০১৩ সালের দিকে ভিসি পদে যোগদান করেই বললেন, আমি সরাসরি শেখ হাসিনার লোক। তিনি আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।
আর ওসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভা্তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হয়েছে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ব্যয়ভার।
সূত্র জানায়, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অনেকেরই শিক্ষাজীবনের সনদ খুবই অসন্তোষজনকও।
এ তালিকায় রয়েছে, মাদক সেবীসহ নানা অপরাধে অভিযুক্তরাও। সম্প্রতি সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরুপ মন্তব্যের অভিযোগে পরিকল্পনা উন্নয়ন ও ওয়ার্কস (ডিপিডি) দপ্তরের সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান ভূইয়া ওরপে সম্রাটকে (৩৫) কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে সম্রাট।
জানা যায়, অহিদুজ্জামানের সংঘটিত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতন শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউজিসির তদন্তে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়।
এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে নির্দেশনাও দেয়া হয়। কিন্তু এরপরেও তিনি মনগড়া কতেককে পরিচালক, সহকারী পরিচালক, কতেক সৃষ্ট অফিসারপদসহ , তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের আধিপত্য জাহির করতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে শতাধিক জনকে নিয়োগ প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, আমরা অহিদুজ্জামানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। তার দুর্নীতির বিষয়টি ইউজিসির তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে। যদি সেই সময়ে ব্যবস্থা নেয়া যেতো তাহলে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভিসিই অনিয়ম করার সাহস পেতোনা।
তিনি বলেন, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে উপযুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ না থাকার পরেও আওয়ামী লীগের নাম করে প্রায় রাজনৈতিক নিয়োগই হয়েছে অহিদুজ্জামানের সময়ে। এ তালিকায় রয়েছে কতেক আওয়ামী নেতার স্ত্রীও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চাকুরি দেয়া তার ক্ষমতার বাহাদুরি হলেও অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে সে সময়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, তার সময়ে মনগড়া নিয়োগগুলো অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। তবে নিয়োগ যদি বাতিল করা না হয়, তাহলে আলোচিতদের এ নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে বোঝা হয়ে থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, উপাচার্য অহিদুজ্জামানের দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। তাকে এখান থেকে সরিয়ে নেয়া ছাড়া কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তবে এবার দেখার বিষয় শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করেও নিয়োগ দেয়ার পর এই নিয়োগগুলোর ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেন ইউজিসি।
উল্লেখ্য, শিক্ষাজীবনের কোন সনদে প্রযুক্তিবিষয়ক যোগ্যতা না থাকায় ড. অহিদুজ্জামান নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ লাভ করার প্রতিবাদে ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যায়ের এক শিক্ষক তার বিরুদ্ধে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিল। সূত্র জানায়, ওই রিটে উচ্চাদালত অহিদুজ্জামানকে করণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করেন।
এদিকে পছন্দসই ও মনগড়া চাকুরি দেয়া অন্যায় এমন কথা মানতে নারাজ সাবেক ভিসি অহিদুজ্জামান। নিজের বিরুদ্ধে আনিত সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বেকার যুবকদের চাকুরি দিয়েছি।
Leave a Reply